যে সংখ্যা কখনো শেষ হয় না, তাকে যোগ করবে কীভাবে? দুটো পথ আছে। এক, দুটো সংখ্যাকে একই আকারে এনে কলামে কষা; দুই, দুটোকেই ভগ্নাংশে নিয়ে গিয়ে সাধারণ ভগ্নাংশের মতো কষা, তারপর দশমিকে ফেরা। প্রথম পথটা বোঝার জন্য দরকার, দ্বিতীয়টা পরীক্ষার জন্য।
১. সদৃশ কাকে বলে
দুই বা ততোধিক আবৃত্ত দশমিকের অনাবৃত্ত ও আবৃত্ত, উভয় অংশের অঙ্কসংখ্যা সমান হলে তাদের সদৃশ বলে। যেকোনো একটা অংশের অঙ্কসংখ্যা আলাদা হলেই তারা অসদৃশ। তাই ০.৩ আর ০.৫ সদৃশ, কারণ দুটোতেই অনাবৃত্ত অঙ্ক নেই আর আবৃত্ত অঙ্ক একটা করে।
এখানে সবচেয়ে বেশি যে ভুলটা হয় সেটা বলে রাখা দরকার: পূর্ণ অংশ এই হিসাবে ঢোকেই না। সদৃশতা মাপা হয় কেবল দশমিক বিন্দুর ডান দিক দেখে। আর অঙ্কগুলো আলাদা হলেও কিছু যায় আসে না; আকারটা এক হলেই সদৃশ। নিচের ছকে প্রতিটা সংখ্যার পাশে তার আকার লেখা আছে, আর ঘরে ট্যাপ করলে জোড়াটা মিলিয়ে দেখা যায়।
ছকঘর ট্যাপ করো
কোন জোড়া সদৃশ?
সংখ্যা
(০,১)
(০,১)
(০,২)
(১,১)
(০,২)
০.৩(০,১)
✓
✓
✕
✕
✕
০.৫(০,১)
✓
✓
✕
✕
✕
০.২৩(০,২)
✕
✕
✓
✕
✓
০.৪৫(১,১)
✕
✕
✕
✓
✕
২.৬৭(০,২)
✕
✕
✓
✕
✓
সদৃশ। ০.৩ আর ০.৫, দুটোরই আকার (০, ১): অনাবৃত্ত অঙ্ক নেই, আবৃত্ত অঙ্ক একটা করে। অঙ্ক দুটো আলাদা হলেও তাতে কিছু যায় আসে না।
অসদৃশ। (০, ১) বনাম (০, ২)। আবৃত্ত অঙ্কসংখ্যা আলাদা। সদৃশ করতে হলে ল.সা.গু. (১, ২) = ২ অঙ্কের আবৃত্তাংশ নিতে হবে, অর্থাৎ ০.৩ কে ০.৩৩ লিখতে হবে।
অসদৃশ। (০, ১) বনাম (১, ১)। আবৃত্ত অঙ্ক দুটোরই একটা করে, কিন্তু অনাবৃত্ত অঙ্ক আলাদা। একটা অংশ না মিললেই অসদৃশ।
সদৃশ, নিজের সঙ্গে নিজে। যেকোনো সংখ্যা নিজের সঙ্গে সবসময় সদৃশ, কারণ আকার দুটো হুবহু এক।
অসদৃশ। (০, ২) বনাম (১, ১)। দুটো অংশই আলাদা। সদৃশ করতে হলে নতুন আকার হবে (১, ২)।
সদৃশ, আর এটাই আসল কথা। ০.২৩ আর ২.৬৭, দুটোরই আকার (০, ২)। পূর্ণ অংশ ২ থাকলেও কিছু যায় আসে না, কারণ সদৃশতা শুধু দশমিক বিন্দুর ডান দিক নিয়ে।
সবগুলো জোড়াই দেখা হলো। ✓ চিহ্নগুলো দুটো গুচ্ছে জমেছে, আর গুচ্ছ দুটোর ভিতরে সবার আকার এক। সদৃশতা আসলে সংখ্যাগুলোকে আকার ধরে দলে ভাগ করে দেয়।
মিলিয়ে দেখো
একটা প্রশ্ন
২.৬৭ এবং ০.২৩, এই জোড়াটি কী?
পূর্ণ অংশ এই হিসাবে ঢোকেই না। সদৃশতা মাপা হয় কেবল দশমিক বিন্দুর ডান দিক দেখে।
ঠিক। দুটোরই আকার (০, ২)। পূর্ণ অংশ থাকুক বা না থাকুক, আর অঙ্কগুলো যাই হোক, আকার এক হলেই সদৃশ।
অঙ্ক আলাদা হলেও সমস্যা নেই। ০.৩ আর ০.৫-এর অঙ্কও আলাদা, তবু তারা সদৃশ।
উত্তরটা ঠিক, কারণটা নয়। দুটোই আবৃত্ত হলেই সদৃশ হয় না; ০.৪৫-ও আবৃত্ত, কিন্তু এদের সঙ্গে সদৃশ নয়।
২. অসদৃশকে সদৃশ বানানো
অসদৃশ কয়েকটা সংখ্যাকে সদৃশ করতে হলে দুটো হিসাব লাগে। নতুন অনাবৃত্ত অঙ্কসংখ্যা হবে সবগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চটা, আর নতুন আবৃত্ত অঙ্কসংখ্যা হবে সবগুলোর আবৃত্ত অঙ্কসংখ্যার ল.সা.গু.। তারপর প্রতিটা সংখ্যার আবৃত্তাংশ যতবার দরকার লিখে ফেললেই হলো।
এখানে একটা কথা জোর দিয়ে বলা দরকার, কারণ প্রায় সবাই সন্দেহ করে: এতে সংখ্যার মান একটুও বদলায় না, কেবল লেখার চেহারা বদলায়। ২.৩ আর ২.৩৩৩৩৩৩৩ হুবহু একই সংখ্যা, দুটোই ২.৩৩৩৩৩৩…। নিচের ধাপগুলো ট্যাপ করো, আর শেষে মিলিয়েও দেখে নাও।
এক আকারে আনোতিনটা ধাপ ট্যাপ করো
সদৃশ বানাও
মিলিয়ে দেখো
আরেকটা প্রশ্ন
২.৩, ৪.১৩৫ ও ৬.২৩৪ কে সদৃশ করলে প্রতিটির আবৃত্তাংশে কয়টি অঙ্ক থাকবে?
৩ হলো সবচেয়ে বড় আবৃত্ত অঙ্কসংখ্যা, কিন্তু এখানে সর্বোচ্চ নয়, ল.সা.গু. লাগবে। ২ অঙ্কের চক্রটা ৩ অঙ্কে গিয়ে শেষ হয় না।
৪ দিয়ে ৩ অঙ্কের চক্রটা মেলে না। এমন সংখ্যা চাই যেটা ১, ২ আর ৩ সবগুলো দিয়েই ভাগ যায়।
ঠিক। আবৃত্ত অঙ্কসংখ্যা যথাক্রমে ১, ২ ও ৩, আর এদের ল.সা.গু. ৬। ৬ নিলেই তিনটা চক্র একসঙ্গে শেষ হয়। অনাবৃত্ত অংশে থাকবে সর্বোচ্চটা, অর্থাৎ ১টা অঙ্ক।
৯ দিয়ে ২ অঙ্কের চক্রটা মেলে না। আর ল.সা.গু. মানে সবচেয়ে ছোট মিলন, ৯ তা নয়।
৩. চার প্রক্রিয়া
সদৃশ করে কলামে যোগ-বিয়োগ করা যায়, আর বই সেটা দেখায়ও। কিন্তু সেখানে একটা ঝামেলা আছে: আবৃত্তাংশের বাঁ প্রান্ত থেকে যে হাতে উঠে আসে, সেটা ডান প্রান্তে ফেরত যোগ করতে হয়, আর ভুল হওয়ার জায়গা অনেক। গুণ আর ভাগের বেলায় তো কলামে কষার কোনো পদ্ধতিই নেই।
তাই চারটে প্রক্রিয়ারই একটাই নিরাপদ পথ, আর সেটা তিন ধাপের: দুটো সংখ্যাকেই ভগ্নাংশে নাও, সাধারণ ভগ্নাংশের মতো কষো, তারপর ফলটাকে দশমিকে ফিরিয়ে আনো। নিচে দুটো সংখ্যা আর একটা চিহ্ন বেছে দেখো; পুরো কষাকষিটা বেরিয়ে আসবে।
হিসাব যন্ত্রদুটো সংখ্যা আর একটা চিহ্ন বাছো
আবৃত্ত দশমিকের চার প্রক্রিয়া
একটা কথা লক্ষ করার মতো: ফলটাও সবসময় ভগ্নাংশ, তাই ফলটাও মূলদ, অর্থাৎ সসীম বা আবৃত্ত। চার প্রক্রিয়ায় মূলদ সংখ্যার ঘর থেকে বেরোনো যায় না, আর সেটাই আগের নোটের আবদ্ধতা বৈশিষ্ট্য। একমাত্র নিষেধ শূন্য দিয়ে ভাগ। আর মাঝে মাঝে ফলটা সসীমও হয়ে যায়: ০.৩ + ০.৬ = ১/৩ + ২/৩ = ১।