শ্রেণিবিন্যাস মানে দলে ভাগ করা, আর দলগুলো একটার ভেতরে আরেকটা। সবচেয়ে বড় দল রাজ্য, সবচেয়ে ছোট প্রজাতি, আর মাঝখানে আরও পাঁচটা। এই সাতটা ধাপের নাম ও ক্রম প্রতিটি পরীক্ষায় আসে, কিন্তু আসল কথাটা ক্রম নয়: নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে দলের সদস্য কমে যায় আর তাদের মধ্যে মিল বেড়ে যায়।
১. ধাপগুলো ক্রমে
সাতটি ধাপ বড় থেকে ছোট: রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ, প্রজাতি। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ধাপটিকে পর্ব না বলে বিভাগ বলা হয়; অর্থ একই, শুধু পরিভাষা আলাদা। আর শ্রেণিবিন্যাসের যেকোনো একটি ধাপে বসানো জীবগোষ্ঠীকে বলে ট্যাক্সন, বহুবচনে ট্যাক্সা।
একটা সতর্কতা আগেই: গোত্র আর গণ দুটো আলাদা ধাপ, আর বাংলা শব্দ দুটো কাছাকাছি শোনায় বলেই সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে যায়। গোত্র বড়, তার ভেতরে একাধিক গণ; প্রতিটি গণের ভেতরে একাধিক প্রজাতি।
ক্রমে সাজাওক্রমানুসারে ট্যাপ করো
বড় থেকে ছোট
সবচেয়ে বড় দলটা কোনটি? সেখান থেকেই শুরু।
ঠিক। এরপর একধাপ ছোট।
এখনো না। মনে রাখো, শ্রেণি পর্বের ভেতরে, আর গণ গোত্রের ভেতরে।
রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ, প্রজাতি। উপর থেকে নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে দলের সদস্যসংখ্যা কমেছে, কিন্তু সদস্যদের পারস্পরিক সাদৃশ্য বেড়েছে। আর শেষ দুটি ধাপ, গণ আর প্রজাতি, মিলেই তৈরি হয় জীবের বৈজ্ঞানিক নাম।
২. একটা প্রজাতি পর্যন্ত নামা
ধাপগুলো একটার ভেতরে আরেকটা, তাই ছবিটাও তা-ই: বড় বাক্সের ভেতরে ছোট বাক্স। নিচের সাত ধাপে মানুষকে খুঁজে বের করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপে দেখো কারা বাদ পড়ল আর কারা টিকে রইল।
ধাপে ধাপেপরে বোতাম চাপো
সাত ধাপে একটি প্রজাতি
রাজ্য: Animalia। শুরু সবচেয়ে বড় দল থেকে। কোষপ্রাচীর নেই, খাদ্য গিলে খায়, দেহ বহুকোষী; এই শর্তে উদ্ভিদ, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া সবাই বাদ। টিকে রইল সব প্রাণী।
পর্ব: Chordata। যাদের দেহে নোটোকর্ড আছে কেবল তারা। তেলাপোকা, কেঁচো, শামুক, সব অমেরুদণ্ডী এখানে বাদ পড়ল। টিকে রইল মেরুদণ্ডীরা।
শ্রেণি: Mammalia। স্তন্যপায়ী, অর্থাৎ যারা সন্তানকে দুধ খাওয়ায় ও যাদের দেহে লোম আছে। মাছ, ব্যাঙ, সাপ ও পাখি এখানে বাদ। টিকে রইল স্তন্যপায়ীরা।
বর্গ: Primates। হাতের আঙুলে নখ, চোখ দুটি সামনের দিকে, আর বুড়ো আঙুল বাকিগুলোর বিপরীতে বসানো। গরু, বাঘ ও তিমি এখানে বাদ পড়ল। টিকে রইল প্রাইমেটরা।
গোত্র: Hominidae। বড় আকারের এপ-গোত্র। ছোট বানরজাতীয় প্রাণীরা এখানে বাদ পড়ল।
গণ: Homo। বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম পদ। এই গণে মানুষের কয়েকটি বিলুপ্ত আত্মীয় প্রজাতিও ছিল।
প্রজাতি: sapiens। সর্বনিম্ন ও মৌলিক একক। এখানে টিকে আছে একটিমাত্র দল, যারা পরস্পরের সঙ্গে প্রজননক্ষম এবং উর্বর বংশধর সৃষ্টি করে। পূর্ণ নাম Homo sapiens, আর সেটাই সাতটি ধাপের শেষ দুটির যোগফল।
প্রাইমেটদের নখ ও বুড়ো আঙুল, আর Hominidae মানে বড় এপ, এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রসঙ্গ বোঝানোর জন্য যোগ করা; এগুলো এই অধ্যায়ের বিষয় নয়।
৩. দুটি জীব পাশাপাশি
একটিমাত্র জীবের সাত ধাপ মুখস্থ করলে ধাপের অর্থ বোঝা যায় না। দুটি জীব পাশাপাশি রাখলে বোঝা যায়, কারণ তখন দেখা যায় কোন ধাপে তারা এক আর কোন ধাপ থেকে আলাদা।
ছকসারি বা ঘরে ট্যাপ করো
দুটি জীব, সাতটি ধাপ
ধাপ
মানুষ
কাঁঠাল
রাজ্য
Animalia
Plantae
পর্ব বা বিভাগ
Chordata
Magnoliophyta
শ্রেণি
Mammalia
Magnoliopsida
বর্গ
Primates
Urticales
গোত্র
Hominidae
Moraceae
গণ
Homo
Artocarpus
প্রজাতি
sapiens
heterophyllus
রাজ্য। সবচেয়ে বড় ধাপ, এক বা একাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ পর্ব নিয়ে গঠিত। এই ধাপেই মানুষ আর কাঁঠালের পথ আলাদা হয়ে গেছে: একজন Animalia, অন্যজন Plantae।
পর্ব। সাদৃশ্যপূর্ণ শ্রেণি নিয়ে গঠিত। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে এই ধাপটিকে বিভাগ বলা হয়, তাই কাঁঠালের ঘরে Magnoliophyta একটি বিভাগ, পর্ব নয়। মানুষের পর্ব Chordata, অর্থাৎ যাদের দেহে নোটোকর্ড থাকে।
শ্রেণি। সাদৃশ্যপূর্ণ বর্গ নিয়ে গঠিত। মানুষ Mammalia শ্রেণিতে, অর্থাৎ স্তন্যপায়ীদের মধ্যে; আর এই শ্রেণিতেই বাঘ, গরু ও তিমিও পড়ে।
বর্গ। সাদৃশ্যপূর্ণ গোত্র নিয়ে গঠিত। মানুষ Primates বর্গে, যেখানে বানর ও এপরাও আছে। মনে রেখো, ইংরেজি Order শব্দটি এখানে ক্রম নয়, একটি ধাপের নাম।
গোত্র। সাদৃশ্যপূর্ণ গণ নিয়ে গঠিত। কাঁঠাল Moraceae গোত্রে, যেখানে ডুমুর ও বটের মতো আত্মীয়রাও আছে। খেয়াল করো, গোত্র বড় আর গণ ছোট; নাম দুটো কাছাকাছি শোনালেও উল্টো কোরো না।
গণ। সাদৃশ্যপূর্ণ প্রজাতি নিয়ে গঠিত, এবং বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম পদ। তাই গণের নাম সবসময় বড় হাতের অক্ষরে শুরু হয়।
প্রজাতি। সর্বনিম্ন ও মৌলিক একক। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ একদল জীব, যারা পরস্পরের সঙ্গে প্রজননক্ষম এবং উর্বর বংশধর সৃষ্টি করতে পারে। এটি নামের দ্বিতীয় পদ, সবসময় ছোট হাতের অক্ষরে।
Urticales বর্গটি এখানে বইয়ের বিন্যাস অনুসারে রাখা হয়েছে। আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে Moraceae গোত্রকে অন্য একটি বর্গে রাখা হয়; পরীক্ষায় তোমার বইয়ের বিন্যাসই চূড়ান্ত।
Artocarpus গণে কাঁঠাল ছাড়াও ডেউয়ার মতো কয়েকটি আত্মীয় প্রজাতি আছে। একই গণ মানেই সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
সাতটি ধাপই দেখা হলো। মানুষ আর কাঁঠাল প্রথম ধাপেই আলাদা হয়ে গেছে, কারণ তারা দূরের আত্মীয়। দুটি জীব যত নিচের ধাপ পর্যন্ত একসঙ্গে থাকে, তারা তত কাছের আত্মীয়; এটাই পরের উইজেটের কথা।
কাঁঠালের সাতটি ধাপ একটি বাংলা পাঠ্য-উৎস থেকে নেওয়া; বইয়ে অন্য কোনো উদ্ভিদের পূর্ণ তালিকা থাকলে সেটিই অনুসরণ করো।
৪. কতদূর একসঙ্গে
মানুষ আর কাঁঠাল প্রথম ধাপেই আলাদা। কিন্তু মানুষ আর বাঘ? দুজনেই প্রাণী, দুজনেরই নোটোকর্ড আছে, দুজনেই স্তন্যপায়ী। তাহলে আলাদা হলো কোথায়?
ছেদঅংশ বেছে নাও
কোথায় আলাদা হলো
অভিন্ন তিনটি ধাপ: রাজ্য Animalia, পর্ব Chordata, শ্রেণি Mammalia। অর্থাৎ মানুষ আর বাঘ দুজনেই প্রাণী, দুজনেরই নোটোকর্ড আছে, দুজনেই স্তন্যপায়ী। উপরের তিনটি ধাপে এদের আলাদা করা যায় না।
শুধু মানুষের: বর্গ Primates, গোত্র Hominidae, গণ Homo, প্রজাতি sapiens। বিভাজনটা শুরু হয়েছে বর্গ ধাপে।
শুধু বাঘের: বর্গ Carnivora, গোত্র Felidae, গণ Panthera, প্রজাতি tigris। পূর্ণ নাম Panthera tigris।
দুটি জীব যত নিচের ধাপ পর্যন্ত একসঙ্গে থাকে, তারা তত কাছের আত্মীয়। এই কারণেই শ্রেণিবিন্যাস কেবল গুছিয়ে রাখার কৌশল নয়; এটি জ্ঞাতিসম্পর্কেরও মানচিত্র।
বাঘের বর্গ ও গোত্র সাধারণ প্রাণিবিজ্ঞান থেকে নেওয়া, এই অনুচ্ছেদ থেকে নয়; Panthera tigris নামটি বইয়ের তালিকার।
অভিধানচিপে ট্যাপ করো
ধাপের অভিধান
Kingdom. সর্বোচ্চ ও বৃহত্তম ধাপ, এক বা একাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ পর্ব নিয়ে গঠিত। হুইটেকারের বিন্যাসে রাজ্য মোট পাঁচটি।
Phylum. সাদৃশ্যপূর্ণ শ্রেণি নিয়ে গঠিত। প্রাণীর ক্ষেত্রে পর্ব, উদ্ভিদের ক্ষেত্রে একই ধাপকে বলা হয় বিভাগ।
Class. সাদৃশ্যপূর্ণ বর্গ নিয়ে গঠিত। যেমন Mammalia, অর্থাৎ সব স্তন্যপায়ী।
Order. সাদৃশ্যপূর্ণ গোত্র নিয়ে গঠিত, যেমন Primates। ইংরেজি Order শব্দটি এখানে ক্রম নয়, একটি ধাপের নাম।
Family. সাদৃশ্যপূর্ণ গণ নিয়ে গঠিত। গোত্র গণের চেয়ে বড়; এই ক্রমটা উল্টে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
Genus. সাদৃশ্যপূর্ণ প্রজাতি নিয়ে গঠিত, এবং বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম পদ; তাই বড় হাতের অক্ষরে শুরু।
Species. শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন ও মৌলিক একক। বৈশিষ্ট্যে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ একদল জীব, যারা পরস্পরের সঙ্গে প্রজননক্ষম এবং উর্বর বংশধর সৃষ্টি করতে পারে। নামের দ্বিতীয় পদ, ছোট হাতের অক্ষরে।
Taxon, বহুবচনে Taxa. শ্রেণিবিন্যাসের যেকোনো একটি ধাপে বসানো জীবগোষ্ঠী। Animalia একটি ট্যাক্সন, Mammalia-ও একটি ট্যাক্সন; শুধু ধাপ আলাদা।
Division. উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পর্বের সমার্থক পরিভাষা। কাঁঠালের Magnoliophyta একটি বিভাগ, পর্ব নয়।
নয়টিই দেখা হলো। খেয়াল করো, সাতটি ধাপের সংজ্ঞা একই ছাঁচের: সাদৃশ্যপূর্ণ ছোট ধাপ নিয়ে গঠিত বড় ধাপ। ছাঁচটা ধরতে পারলে সাতটা আলাদা করে মুখস্থ করতে হয় না।
মিলিয়ে দেখো
একটা প্রশ্ন
শ্রেণিবিন্যাসের সঠিক ক্রম কোনটি?
পর্ব ও শ্রেণির ক্রম উল্টো; শ্রেণি পর্বের ভেতরে।
ঠিক। দুটি জায়গায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়: পর্ব ও শ্রেণির ক্রম, আর গোত্র ও গণের ক্রম। মনে রাখো, শ্রেণি পর্বের ভেতরে আর গণ গোত্রের ভেতরে। শেষ বিকল্পটি ক্রম ঠিক রেখেছে কিন্তু উল্টো দিক থেকে লেখা, তাই বড় থেকে ছোট চাওয়া হলে সেটি ভুল।
বর্গ ও শ্রেণির ক্রম উল্টো, আর গোত্র ও গণেরও।
ক্রমটি ঠিক, কিন্তু উল্টো দিক থেকে; প্রশ্নে বড় থেকে ছোট চাওয়া হয়েছে।
মিলিয়ে দেখো
আরেকটা প্রশ্ন
মানুষ ও বাঘ কোন ধাপ পর্যন্ত একই ট্যাক্সনে থাকে?
রাজ্যের পরেও তারা একসঙ্গে থাকে, পর্ব ও শ্রেণিতেও।
পর্বের পরেও একসঙ্গে; দুজনেই Mammalia শ্রেণিতে।
ঠিক। দুজনেই Animalia, Chordata ও Mammalia। পথ আলাদা হয় পরের ধাপে: মানুষ Primates বর্গে, বাঘ Carnivora বর্গে। দুটি জীব যত নিচের ধাপ পর্যন্ত একসঙ্গে থাকে, তারা তত কাছের আত্মীয়।
বর্গেই তারা আলাদা হয়ে যায়।
মিলিয়ে দেখো
শেষ প্রশ্ন
এক বা একাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ গণ নিয়ে গঠিত হয় কোনটি?
বর্গ গঠিত হয় সাদৃশ্যপূর্ণ গোত্র নিয়ে, তাই সেটি এক ধাপ উপরে।
ঠিক। ক্রমটি হলো গোত্র, গণ, প্রজাতি। কয়েকটি সাদৃশ্যপূর্ণ প্রজাতি মিলে একটি গণ, আর কয়েকটি সাদৃশ্যপূর্ণ গণ মিলে একটি গোত্র। গোত্র গণের চেয়ে বড়।
শ্রেণি গঠিত হয় সাদৃশ্যপূর্ণ বর্গ নিয়ে, দুই ধাপ উপরে।