চিরকুট। English

জীববিজ্ঞান · নবম-দশম · অধ্যায় ১ · ১.৩

পাঁচটি রাজ্য।

পৃথিবীতে যত জীব আছে, হুইটেকার তাদের পাঁচটি রাজ্যে (জগৎ, Kingdom) ভাগ করেছিলেন ১৯৬৯ সালে। ভাগটা খেয়ালখুশির নয়; তিনি তিনটি জিনিস দেখেছেন, কোষের গঠন, দেহের গঠন আর পুষ্টিপদ্ধতি। এই নোটের একটাই লক্ষ্য: পাঁচটি রাজ্যের নাম মুখস্থ করানো নয়, বরং হাতে এমন একটা পদ্ধতি তুলে দেওয়া যা দিয়ে যেকোনো জীব দেখে তুমি নিজেই বলতে পারবে সে কোন রাজ্যের।

১. সবচেয়ে গভীর রেখাটি

পাঁচ রাজ্যের ভেতরে ঢোকার আগে একটা রেখা টেনে নেওয়া দরকার, কারণ এই রেখাটাই সবচেয়ে পুরনো ও সবচেয়ে গভীর। কোনো কোষের ভেতরে সুগঠিত নিউক্লিয়াস আছে কি নেই। থাকলে সেই কোষ সুগঠিত কোষী (ইউক্যারিওটিক), না থাকলে আদিকোষী (প্রোক্যারিওটিক)। হাতলটা টেনে দুটো কোষ পাশাপাশি দেখো।

দুই কোষ হাতল টানো

নিউক্লিয়াস আছে, নিউক্লিয়াস নেই

আদিকোষ
সুগঠিত কোষ

বাঁ দিকের কোষে ক্রোমাটিন বস্তু আছে, কিন্তু তাকে ঘিরে কোনো পর্দা নেই, নিউক্লিওলাসও নেই; প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া বা এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামও নেই। যা আছে তা হলো রাইবোজোম, আর বাইরে একটা কোষপ্রাচীর। ডান দিকের কোষে নিউক্লিয়ার পর্দায় ঘেরা সুগঠিত নিউক্লিয়াস, তার ভেতরে নিউক্লিওলাস, আর চারপাশে মাইটোকন্ড্রিয়া ও এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের মতো অঙ্গাণু। এই একটিমাত্র পার্থক্য দিয়েই পাঁচটি রাজ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

২. পাঁচ রাজ্য এক টেবিলে

হুইটেকার যে তিনটি জিনিস দেখেছিলেন, বই সেগুলোকে চারটি প্রশ্নে সাজায়: কোষের ধরন কী, কোষপ্রাচীর আছে কি না ও থাকলে কীসের, পুষ্টি কীভাবে আসে, আর দেহ এককোষী না বহুকোষী। পাঁচটি রাজ্যকে পাশাপাশি বসিয়ে এই চারটি প্রশ্ন করলে পুরো অনুচ্ছেদটা একটা টেবিলে ধরে যায়।

ছক সারি বা ঘরে ট্যাপ করো

পাঁচ রাজ্য, চার বৈশিষ্ট্য

সারিতে রাজ্য, কলামে বৈশিষ্ট্য। রাজ্যের নামে ট্যাপ করলে পুরো পরিচয়, আর চিহ্নিত ঘরে ট্যাপ করলে সেই বৈশিষ্ট্যটির ব্যাখ্যা।

রাজ্য কোষ প্রাচীর পুষ্টি সংখ্যা
মনেরা আদিকোষী আছে শোষণ এককোষী
প্রোটিস্টা সুগঠিত কারও আছে তিন রকমই এককোষী
ফানজাই সুগঠিত কাইটিন শুধু শোষণ এক বা বহু
প্লানটি সুগঠিত সেলুলোজ স্বভোজী বহুকোষী
অ্যানিমেলিয়া সুগঠিত নেই গলাধঃকরণ বহুকোষী
মনেরা। আদিকোষী: সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই, ক্রোমাটিন বস্তু আছে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া বা এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম নেই; রাইবোজোম আছে। কোষপ্রাচীর আছে। দেহ এককোষী, তন্তুময় বা কলোনিয়াল। পুষ্টি শোষণ দ্বারা, কেউ কেউ সালোকসংশ্লেষণও করে। জনন প্রধানত দ্বিবিভাজনে। উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল।

৩. দুই সুপার রাজ্য

১৯৭৪ সালে মার্গুলিস হুইটেকারের পাঁচ রাজ্যকে দুটি সুপার রাজ্যের নিচে সাজিয়ে দিলেন। খেয়াল রেখো, তিনি রাজ্যের সংখ্যা বদলাননি; পাঁচটিই রইল, কেবল ওপরে দুটি ছাতা বসল। ছাতা দুটির ভিত্তি সেই নিউক্লিয়াসের রেখা।

গাছ ট্যাপ করে খোলো

দুই সুপার রাজ্য, পাঁচ রাজ্য

  • জীবজগৎ
    • সুপার রাজ্য: প্রোক্যারিওটা
      • রাজ্য ১ · মনেরা
        • ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল
    • সুপার রাজ্য: ইউক্যারিওটা
      • রাজ্য ২ · প্রোটিস্টা
        • অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, ইউগ্লিনা
      • রাজ্য ৩ · ফানজাই
        • মাশরুম, পেনিসিলিয়াম, ইস্ট
      • রাজ্য ৪ · প্লানটি
        • আম, কাঁঠাল, ধান, শাপলা
      • রাজ্য ৫ · অ্যানিমেলিয়া
        • ইলিশ, রুই, বাঘ, তেলাপোকা

লক্ষ করো, একটি সুপার রাজ্যে মাত্র একটি রাজ্য আর অন্যটিতে চারটি। ভাগটা সংখ্যায় সমান নয়, গুরুত্বে সমান। নিউক্লিয়াস থাকা না থাকা জীবজগতের সবচেয়ে গভীর পার্থক্য।

৪. রাজ্য নির্ণায়ক

একজন ট্যাক্সোনমিস্ট ঠিক এভাবেই কাজ করেন, একটার পর একটা দুই-মুখো প্রশ্ন। নিচের চাবিটায় চারটি প্রশ্ন আছে, আর প্রতিটি প্রশ্ন আগেরটির উত্তরের ওপর দাঁড়িয়ে। একটা জীব বেছে নাও, তারপর প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

চাবি জীব বেছে নাও, উত্তর দাও

রাজ্য নির্ণায়ক

৫. এবার নিজে ভাগ করো

ছক পড়া আর ছক প্রয়োগ করা এক জিনিস নয়। নিচের দশটি জীবের মধ্যে দুটো ফাঁদ আছে। নীলাভ সবুজ শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ করে, তবু উদ্ভিদ নয়; মাশরুম স্থির ও কোষপ্রাচীরযুক্ত, তবু উদ্ভিদ নয়। কেন, সেটা আগে ভেবে নাও।

ভাগ করো চিপ, তারপর রাজ্য

কোন রাজ্যের বাসিন্দা

একটা চিপ ধরো, তারপর রাজ্যে ছাড়ো। প্রতিবার প্রশ্নটা একই: কোষ, প্রাচীর, পুষ্টি, সংখ্যা।
কার্ড কার্ড উল্টাও

এক কথায় চিনে নাও

রাজ্যমনেরা
চেনার উপায়একমাত্র আদিকোষী রাজ্য; সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই। প্লাস্টিড ও মাইটোকন্ড্রিয়াও নেই, রাইবোজোম আছে।
রাজ্যপ্রোটিস্টা
চেনার উপায়সুগঠিত কোষী অথচ প্রধানত এককোষী, আর তিন রকম পুষ্টিই এখানে দেখা যায়। ভ্রূণ গঠিত হয় না।
রাজ্যফানজাই
চেনার উপায়কোষপ্রাচীর কাইটিনের, আর পুষ্টি শুধু শোষণে, মৃতজীবী বা পরজীবী হিসেবে।
রাজ্যপ্লানটি
চেনার উপায়সেলুলোজের কোষপ্রাচীর আর ক্লোরোফিল, দুটো একসঙ্গে। বহুকোষী স্বভোজী, ভ্রূণ গঠিত হয়।
রাজ্যঅ্যানিমেলিয়া
চেনার উপায়কোষপ্রাচীর নেই। খাদ্য গিলে খায়; ভ্রূণে তিনটি স্তর, এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম।
দুটি ছাতাসুপার রাজ্য দুটি
মার্গুলিস, ১৯৭৪প্রোক্যারিওটা: শুধু মনেরা। ইউক্যারিওটা: প্রোটিস্টা, ফানজাই, প্লানটি ও অ্যানিমেলিয়া।
মিলিয়ে দেখো

একটা প্রশ্ন

কোন রাজ্যের জীবের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত?

মিলিয়ে দেখো

আরেকটা প্রশ্ন

নীলাভ সবুজ শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাদ্য তৈরি করে, তবু একে প্লানটি রাজ্যে রাখা হয় না কেন?

মিলিয়ে দেখো

শেষ প্রশ্ন

একটি জীবের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস আছে, দেহ বহুকোষী ও কলাবিন্যাসসম্পন্ন, কোষপ্রাচীর আছে কিন্তু ক্লোরোফিল নেই। জীবটি কোন রাজ্যের?

এক নজরে

ভিত্তি। কোষের গঠন, দেহের গঠন ও পুষ্টিপদ্ধতি; হুইটেকার, ১৯৬৯।

দুই ছাতা। প্রোক্যারিওটায় শুধু মনেরা; ইউক্যারিওটায় বাকি চারটি; মার্গুলিস, ১৯৭৪।

প্রাচীর। মনেরায় আছে, ফানজাইয়ে কাইটিন, প্লানটিতে সেলুলোজ, অ্যানিমেলিয়ায় নেই।

নিয়ম। একটিমাত্র বৈশিষ্ট্য দিয়ে রাজ্য নির্ণয় করা যায় না; বৈশিষ্ট্যের ক্রম মেনে চলতে হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (এনসিটিবি), অধ্যায় ১ “জীবন পাঠ”, অনুচ্ছেদ ১.৩, জীবজগৎ অংশ।