পরীক্ষাগার ভয়ের জায়গা নয়, নিয়মের জায়গা। প্রায় সব দুর্ঘটনার কারণ তিনটার একটা: না জেনে কিছু ধরা, তাড়াহুড়ো করা, আর সুরক্ষা সামগ্রী না পরা। তিনটাই আগে থেকে ঠেকানো যায়, আর সেটাই এই অংশটার পুরো কাজ।
১. বোতলের গায়ের ছবিগুলো
রাসায়নিক দ্রব্যের বোতলে ছবি আঁকা থাকে কেন, লেখা না থেকে? কারণ ছবিটা এক সেকেন্ডে পড়া যায়। ভাষা না জানলেও, তাড়াহুড়োর মধ্যেও, দূর থেকেও। আর প্রথম তথ্যটা দেয় আকৃতি: লাল পাড়ের কোণাকুণি একটা হীরা মানেই এই বোতলে রাসায়নিক বিপদ আছে, ভেতরের ছবিটা বলবে কোন বিপদ।
আটটা চিহ্নে এক এক করে ট্যাপ করো। প্রতিটার সঙ্গে তার মানে, একটা উদাহরণ আর করণীয়টুকু আসবে।
বিপদ সংকেতএকটা চিহ্ন বেছে নাও
কোন ছবিটা কী বলছে
দাহ্য। শিখার ছবি। সহজে আগুন ধরে যায়। উদাহরণ: অ্যালকোহল, ইথার, প্রাকৃতিক গ্যাস। করণীয়: আগুন, শিখা আর তাপ থেকে সবসময় দূরে রাখা।
বিস্ফোরক। ফেটে পড়া বোমার ছবি। আঘাত, ঘর্ষণ বা তাপে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে। উদাহরণ: TNT, নাইট্রোগ্লিসারিন, জৈব পারঅক্সাইড।
বিষাক্ত। মাথার খুলি আর আড়াআড়ি হাড়। অল্প পরিমাণেও ত্বকে লাগলে বা শ্বাসের সঙ্গে ভেতরে গেলে মারাত্মক ক্ষতি করে। উদাহরণ: বেনজিন, মিথানল।
ক্ষয়কারী। হাত আর ধাতব পাতের ওপর তরল পড়ে ক্ষয় হওয়ার ছবি। ত্বকে পড়লে ক্ষত তৈরি করে, শ্বাসে গেলে ভেতরে ক্ষতি করে। উদাহরণ: HCl, গাঢ় H₂SO₄, NaOH দ্রবণ। কিছু বইয়ে একে “ক্ষত সৃষ্টিকারী”ও লেখা হয়।
উত্তেজক বা ক্ষতিকর। বিস্ময়বোধক চিহ্ন। ত্বক, চোখ বা শ্বাসতন্ত্রে জ্বালা ধরায়। উদাহরণ: সিমেন্টের ধুলা, লঘু এসিড। সবচেয়ে কম ভয়ংকর দেখতে চিহ্নটাই সবচেয়ে বেশি অবহেলা পায়।
স্বাস্থ্য-ঝুঁকিপূর্ণ। বুকের ভেতর বিস্ফারণের ছবি। সঙ্গে সঙ্গে কিছু না হলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার বা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। উদাহরণ: বেনজিন, টলুইন, জাইলিন।
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। মরা মাছ আর মরা গাছ। জলজ ও স্থলজ প্রাণের ক্ষতি করে। উদাহরণ: সিসা, পারদ, আর্সেনিকের মতো ভারী ধাতু। করণীয়: যেখানে-সেখানে না ফেলা, আর সম্ভব হলে পুনরুদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার।
তেজস্ক্রিয়। তিন পাপড়ির চিহ্ন, নাম ট্রিফয়েল। ক্ষতিকর রশ্মি বিকিরণ করে, আর দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার বা প্রতিবন্ধিতার কারণ হতে পারে। উদাহরণ: ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম। খেয়াল করো, এটা হীরা নয়: বাকি চিহ্নগুলো লাল পাড়ের হীরা, কিন্তু ট্রিফয়েল একেবারে আলাদা একটা আন্তর্জাতিক চিহ্ন, তাই আকৃতি দেখেই একে চেনা যায়।
আটটাই দেখা হলো। মনে রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় ছবিটার সঙ্গে ক্ষতিটাকে মেলানো: শিখা মানে আগুন, খুলি মানে বিষ, ক্ষয়ে যাওয়া হাত মানে ত্বকের ক্ষত, মরা মাছ মানে পরিবেশ।
চিহ্নগুলো হাতে আঁকা, তাই ছাপা লেবেলের সঙ্গে হুবহু মিলবে না। আকৃতি আর ভেতরের ছবিটাই চেনার জিনিস।
মিলিয়ে দেখোএকটা উত্তর বেছে নাও
বোতলের গায়ের ছবি
একটি বোতলের গায়ে হাত আর ধাতব পাতের ওপর তরল পড়ে ক্ষয় হওয়ার চিহ্ন আঁকা আছে। এটি কোন ধরনের পদার্থ, আর উদাহরণ কী?
দাহ্য পদার্থের চিহ্ন শিখার ছবি, ক্ষয়ে যাওয়া হাত নয়। ইথার সত্যিই দাহ্য, কিন্তু ছবিটা অন্য।
ঠিক। হাত আর ধাতব পাত ক্ষয় হওয়ার চিহ্নটি ক্ষয়কারী পদার্থ বোঝায়: ত্বকে পড়লে ক্ষত, শ্বাসে গেলে ভেতরে ক্ষতি। উদাহরণ গাঢ় H₂SO₄, HCl, আর NaOH দ্রবণ।
তেজস্ক্রিয়তার চিহ্ন ট্রিফয়েল, তিন পাপড়ির একটা আলাদা চিহ্ন। ওটা হীরার ভেতরেও থাকে না।
পরীক্ষাগারে ঢোকার প্রথম দিনে সবচেয়ে দরকারি কাজটা কোনো পরীক্ষা করা নয়। কাজটা হলো ঘরটার দিকে তাকিয়ে কয়েকটা জিনিসের অবস্থান মুখস্থ করে ফেলা: অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, বালুর বালতি, আই-ওয়াশ ও পানির কল, প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স, ফিউম হুড, আর বেরোনোর পথ। কারণ দরকারের সময় খুঁজে বের করার সময়টুকু থাকে না।
নিচের ছবিটায় দশটা বিন্দু আছে। ছয়টা সেই জিনিসগুলোর, যেগুলোর জায়গা জানা থাকতে হবে। আর চারটা এমন ভুল, যেগুলো প্রতিবার কাজ শুরুর আগে নিজের ওপর একবার যাচাই করে নেওয়া যায়। দশটাই খুঁজে বের করো।
ঘরটাপ্রতিটা বিন্দুতে ট্যাপ করো
গবেষণাগারে কী কোথায়
১. অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। আগুন লাগলে এখান থেকেই নিতে হবে। ঢোকার প্রথম দিনেই দেখে রাখো এটা কোথায় ঝোলানো আছে।
২. বালুর বালতি। ছোট আগুন, বিশেষ করে যেখানে পানি দেওয়া নিরাপদ নয়, সেখানে বালু চাপা দিয়ে বাতাস বন্ধ করা হয়।
৩. আই-ওয়াশ ও পানির কল। চোখে বা ত্বকে রাসায়নিক পড়লে এখানেই আসতে হবে, তাই সিঙ্কের কাছে জায়গাটা সবসময় ফাঁকা রাখা জরুরি। বোতল বা ব্যাগ দিয়ে পথটা আটকে রেখো না।
৪. প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স। এর জায়গাটা জানা থাকা দরকার, আর এটা কে খুলবে সেটাও। যা-ই ঘটুক, প্রথম কাজ শিক্ষককে জানানো, নিজে সামলানোর চেষ্টা নয়।
৫. ফিউম হুড। উদ্বায়ী, দুর্গন্ধযুক্ত বা বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয় এমন কাজ খোলা বেঞ্চে করা যাবে না, হুডের ভেতরে করতে হবে, কারণ হুড বাতাসটা টেনে বাইরে বের করে দেয়।
৬. বেরোনোর পথ। বিপদের সময় কোন দিকে বেরোবে সেটা আগে থেকে জানা থাকলে হুড়োহুড়ি কমে যায়। তোমার স্কুলে কোথায় জড়ো হতে হবে, সেটাও শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে রাখো।
৭. চশমা কপালে তোলা। নিরাপত্তা চশমা কপালে থাকলে চোখ অরক্ষিত, আর ছিটকে আসা এক ফোঁটাই যথেষ্ট। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চশমা চোখেই থাকবে।
৮. চুল খোলা। লম্বা চুল খোলা থাকলে বার্নারের শিখায় বা রাসায়নিকে লেগে যেতে পারে। বেঁধে নাও। খুব ঢিলেঢালা বা ঝুলন্ত পোশাকেও একই ঝুঁকি।
৯. বোতলের ছিপি খোলা। খোলা বোতল থেকে বাষ্প ছড়ায়, উল্টে পড়লে সবটা ছড়িয়ে যায়, আর ছিপি বদলে গেলে দুটো রাসায়নিক মিশে যেতে পারে। নেওয়ার পরপরই ছিপি লাগাও, আর উদ্বৃত্ত রাসায়নিক বোতলে ফেরত দিয়ো না।
১০. বার্নার জ্বালিয়ে রেখে যাওয়া। কাজ না থাকলে বার্নার নিভিয়ে রাখো, আর জায়গা ছাড়ার আগে গ্যাসের চাবি বন্ধ করো। দাহ্য কিছু কাছাকাছি থাকলে সেটা আগে শিখা থেকে সরাও।
দশটাই পেয়েছ। এর মধ্যে ছয়টার অবস্থান মনে রাখার জিনিস: অগ্নিনির্বাপক, বালুর বালতি, আই-ওয়াশ, প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স, ফিউম হুড আর বেরোনোর পথ। বাকি চারটা অভ্যাসের ভুল, যেগুলো প্রতিবার কাজ শুরুর আগে নিজের ওপর যাচাই করে নেওয়া যায়।
ঘরটা হাতে আঁকা মডেল। তোমার স্কুলের পরীক্ষাগারে জিনিসগুলো অন্য জায়গায় থাকবে, তাই নিজের ঘরটা নিজে দেখে নিয়ো।
৩. কাজ শুরুর আগে
সুরক্ষা সামগ্রী কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, প্রতিটার একটা নির্দিষ্ট কাজ আছে, আর প্রতিটা শরীরের আলাদা একটা জায়গা বাঁচায়। নিচের তালিকা থেকে যেগুলো লাগবে সেগুলো বেছে নাও। একটা জিনিস তালিকায় আছে যেটা আসলে সুরক্ষা সামগ্রীই নয়।
পরে নাওট্যাপ করে পরিয়ে দাও
কোনগুলো ছাড়া কাজ শুরু হয় না
অ্যাপ্রন। এসিড বা ক্ষার ছিটকে পড়লে শরীর আর জামা দুটোই বাঁচায়। ল্যাব থেকে বেরোনোর সময় এটা খুলে রেখে যেতে হয়, কারণ যা ছিটকেছে সেটা এর গায়েই আছে।
হ্যান্ড গ্লাভস। ক্ষয়কারী আর বিষাক্ত রাসায়নিক থেকে হাত বাঁচায়। গ্লাভস পরা হাতে মুখ, চোখ বা ফোন ছুঁয়ো না, কারণ তাতে রাসায়নিকটা সেখানেই চলে যায়।
নিরাপত্তা চশমা। ছিটকে আসা এক ফোঁটা রাসায়নিক থেকেও চোখ বাঁচায়, আর চোখের ক্ষতি সেই ক্ষতিগুলোর একটা যেগুলো ফেরানো যায় না। কপালে তুলে রাখলে কোনো কাজেই লাগে না।
মাস্ক। বিষাক্ত আর দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস কিছুটা ছেঁকে নেয়। তবু উদ্বায়ী রাসায়নিকের কাজ মাস্ক পরে খোলা বেঞ্চে নয়, ফিউম হুডেই করতে হবে।
চুল বাঁধা। এটা কোনো যন্ত্র নয়, তবু তালিকার একটা জিনিস। খোলা লম্বা চুল বার্নারের শিখায় বা রাসায়নিকে লেগে যেতে পারে। খুব ঢিলেঢালা বা ঝুলন্ত পোশাকেও একই ঝুঁকি।
হেডফোন। এটা সুরক্ষা সামগ্রী নয়, বরং উল্টোটা। কানে হেডফোন থাকলে সতর্কবার্তা বা শিক্ষকের নির্দেশ শোনা যায় না, তাই ঝুঁকি বাড়ে। সুরক্ষা সামগ্রী একটা নির্দিষ্ট তালিকা, যা ইচ্ছে তা নয়।
ছয়টাই দেখা হলো, আর তার মধ্যে পাঁচটা সত্যিকারের। অ্যাপ্রন শরীর, গ্লাভস হাত, চশমা চোখ, মাস্ক শ্বাস, আর চুল বাঁধা শিখা থেকে। ষষ্ঠটা কোনো সুরক্ষা নয়।
৪. দশটা অভ্যাস
নিয়মগুলো লম্বা তালিকা হিসেবে পড়লে মনে থাকে না, কিন্তু এক একটা করে ঠিক-ভুল বিচার করলে থাকে। নিচের দশটা অভ্যাস দুই ঘরে ভাগ করো।
ভাগ করোচিপ, তারপর বাক্স
ঠিক না ভুল
একটা চিপ ধরো, তারপর বাক্সে ছাড়ো।
ঠিক। পরেরটা।
এটা এখানে না। প্রশ্নটা করো: এতে কি কিছু তোমার শরীরে বা বাতাসে পৌঁছানোর একটা পথ খুলে যাচ্ছে?
সব ঠিক জায়গায়। দশটার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ভুলটা হলো এসিডের মধ্যে পানি ঢালা: পানি হঠাৎ ফুটে উঠে এসিডসহ ছিটকে পড়তে পারে। নিয়মটা এক লাইনে, এসিড পানিতে, ধীরে, নেড়ে নেড়ে।
৫. একই ঘর, দুই রকম
শেষ অভ্যাসটা সবচেয়ে সহজ আর সবচেয়ে কম করা হয়: কাজ শুরুর আগে একবার নিজের বেঞ্চটার দিকে তাকানো। হাতলটা টেনে দেখো। একই ঘর, একই বেঞ্চ, একই মানুষ, শুধু পাঁচটা জিনিস আলাদা।
আগে ও পরেহাতলটা টেনে পাঁচটা পার্থক্য খোঁজো
একই বেঞ্চ, দুই রকম
পাঁচটা পার্থক্য: চশমা কপালে না চোখে, চুল খোলা না বাঁধা, অ্যাপ্রন নেই না আছে, বোতলের ছিপি খোলা না লাগানো, আর বার্নার জ্বলছে না নেভানো। পাঁচটাই তুমি নিজে, কাজ শুরুর আগে, দশ সেকেন্ডে যাচাই করে নিতে পারো।
ছবিটা হাতে আঁকা মডেল, কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারের ছবি নয়।
মিলিয়ে দেখোএকটা উত্তর বেছে নাও
তিন পাপড়ির চিহ্ন
তেজস্ক্রিয়তার আন্তর্জাতিক চিহ্নটি কী নামে পরিচিত?
লাল পাড়ের হীরাগুলোই GHS-এর চিহ্ন, আর তেজস্ক্রিয়তার চিহ্নটা সেই পরিবারের নয়। আকৃতি দেখেই সেটা আলাদা করা যায়, আর সেটাই এর সুবিধা।
ঠিক। তিন পাপড়ির চিহ্নটির নাম ট্রিফয়েল। বাকি রাসায়নিক বিপদ সংকেতগুলো লাল পাড়ের কোণাকুণি হীরা, কিন্তু ট্রিফয়েল একেবারে আলাদা একটা আন্তর্জাতিক চিহ্ন।
বায়োহ্যাজার্ড চিহ্নটাও তিনটে অংশের এবং দেখতে কিছুটা কাছাকাছি, কিন্তু সেটা জৈব বিপদের, যেমন জীবাণু। তেজস্ক্রিয়তার নয়।
ক্রসবোন বা আড়াআড়ি হাড় থাকে খুলির চিহ্নে, যেটা বিষাক্ত পদার্থ বোঝায়। তেজস্ক্রিয়তার চিহ্নে কোনো হাড় নেই।
৬. আর যা-ই ঘটুক
এতক্ষণ যা পড়লে তার প্রায় সবটাই দুর্ঘটনা ঠেকানোর কথা। তবু কিছু ঘটে গেলে সবচেয়ে জরুরি কাজটা একটাই, আর সেটা মুখস্থ রাখার মতো ছোট: সাথে সাথে শিক্ষককে জানাও। ছোট বলে চেপে যাওয়া দুর্ঘটনাই বড় হয়। রাসায়নিক ছলকে পড়ুক, কাচ ভাঙুক, গায়ে কিছু লাগুক বা গ্যাসের গন্ধ পাও, প্রথম কাজ জানানো।
আর দ্বিতীয় কাজটা করতে হবে আজই, দুর্ঘটনার আগেই: তোমার নিজের পরীক্ষাগারের নিয়মগুলো শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে নাও। কোথায় কী আছে, কিছু ঘটলে কে কী করবে, আর সবাইকে বেরোতে হলে কোথায় জড়ো হতে হবে। এগুলো স্কুলভেদে আলাদা, আর জানার একমাত্র উপায় জিজ্ঞেস করা।
আগের অংশটা বলেছে কীভাবে একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়। এই অংশটা বলছে সেই খোঁজাটা নিরাপদে করার শর্ত কী। দুটোর একটা ছাড়া অন্যটা কাজে আসে না, আর অধ্যায়টা ঠিক এখানেই শেষ হয়।
মিলিয়ে দেখোএকটা উত্তর বেছে নাও
লেবেলহীন বোতল
বেঞ্চের ওপর একটা বোতলে কোনো লেবেল নেই, আর ভেতরে পরিষ্কার একটা তরল। সবচেয়ে সঠিক পদক্ষেপ কোনটি?
কোনো রাসায়নিক শোঁকা বা চাখা যাবে না, এটাই নিয়ম, আর অচেনা কিছুর ক্ষেত্রে নিয়মটা আরও কঠিন। বিষাক্ত বা উদ্বায়ী কিছু হলে এক শ্বাসই যথেষ্ট।
পরিষ্কার দেখতে অনেক কিছুই হয়। গাঢ় এসিড, অ্যালকোহল, ইথার, সবই বর্ণহীন। চেহারা দেখে রাসায়নিক চেনার কোনো উপায় নেই।
ঠিক। লেবেল না থাকা মানে জিনিসটা অচেনা, আর অচেনা রাসায়নিক ছোঁয়ার নিয়ম নেই। জানানোটাই একমাত্র নিরাপদ পদক্ষেপ, আর শিক্ষকই ঠিক করবেন এরপর কী হবে।
অচেনা রাসায়নিক সিঙ্কে ঢালা যাবে না। কিছু রাসায়নিক নর্দমার অন্য কিছুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে, আর কিছু সরাসরি পরিবেশের ক্ষতি করে। ফেলার নিয়মটাও শিক্ষকের কাছ থেকেই জানতে হবে।