চিরকুট। English

রসায়ন · নবম-দশম · অধ্যায় ১ · রসায়নের ধারণা

পরীক্ষাগারে সতর্কতা।

পরীক্ষাগার ভয়ের জায়গা নয়, নিয়মের জায়গা। প্রায় সব দুর্ঘটনার কারণ তিনটার একটা: না জেনে কিছু ধরা, তাড়াহুড়ো করা, আর সুরক্ষা সামগ্রী না পরা। তিনটাই আগে থেকে ঠেকানো যায়, আর সেটাই এই অংশটার পুরো কাজ।

১. বোতলের গায়ের ছবিগুলো

রাসায়নিক দ্রব্যের বোতলে ছবি আঁকা থাকে কেন, লেখা না থেকে? কারণ ছবিটা এক সেকেন্ডে পড়া যায়। ভাষা না জানলেও, তাড়াহুড়োর মধ্যেও, দূর থেকেও। আর প্রথম তথ্যটা দেয় আকৃতি: লাল পাড়ের কোণাকুণি একটা হীরা মানেই এই বোতলে রাসায়নিক বিপদ আছে, ভেতরের ছবিটা বলবে কোন বিপদ।

আটটা চিহ্নে এক এক করে ট্যাপ করো। প্রতিটার সঙ্গে তার মানে, একটা উদাহরণ আর করণীয়টুকু আসবে।

বিপদ সংকেত একটা চিহ্ন বেছে নাও

কোন ছবিটা কী বলছে

দাহ্য। শিখার ছবি। সহজে আগুন ধরে যায়। উদাহরণ: অ্যালকোহল, ইথার, প্রাকৃতিক গ্যাস। করণীয়: আগুন, শিখা আর তাপ থেকে সবসময় দূরে রাখা।

চিহ্নগুলো হাতে আঁকা, তাই ছাপা লেবেলের সঙ্গে হুবহু মিলবে না। আকৃতি আর ভেতরের ছবিটাই চেনার জিনিস।

মিলিয়ে দেখো একটা উত্তর বেছে নাও

বোতলের গায়ের ছবি

একটি বোতলের গায়ে হাত আর ধাতব পাতের ওপর তরল পড়ে ক্ষয় হওয়ার চিহ্ন আঁকা আছে। এটি কোন ধরনের পদার্থ, আর উদাহরণ কী?

২. ঘরটা আগে চিনে রাখো

পরীক্ষাগারে ঢোকার প্রথম দিনে সবচেয়ে দরকারি কাজটা কোনো পরীক্ষা করা নয়। কাজটা হলো ঘরটার দিকে তাকিয়ে কয়েকটা জিনিসের অবস্থান মুখস্থ করে ফেলা: অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, বালুর বালতি, আই-ওয়াশ ও পানির কল, প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স, ফিউম হুড, আর বেরোনোর পথ। কারণ দরকারের সময় খুঁজে বের করার সময়টুকু থাকে না।

নিচের ছবিটায় দশটা বিন্দু আছে। ছয়টা সেই জিনিসগুলোর, যেগুলোর জায়গা জানা থাকতে হবে। আর চারটা এমন ভুল, যেগুলো প্রতিবার কাজ শুরুর আগে নিজের ওপর একবার যাচাই করে নেওয়া যায়। দশটাই খুঁজে বের করো।

ঘরটা প্রতিটা বিন্দুতে ট্যাপ করো

গবেষণাগারে কী কোথায়

১. অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। আগুন লাগলে এখান থেকেই নিতে হবে। ঢোকার প্রথম দিনেই দেখে রাখো এটা কোথায় ঝোলানো আছে।

ঘরটা হাতে আঁকা মডেল। তোমার স্কুলের পরীক্ষাগারে জিনিসগুলো অন্য জায়গায় থাকবে, তাই নিজের ঘরটা নিজে দেখে নিয়ো।

৩. কাজ শুরুর আগে

সুরক্ষা সামগ্রী কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, প্রতিটার একটা নির্দিষ্ট কাজ আছে, আর প্রতিটা শরীরের আলাদা একটা জায়গা বাঁচায়। নিচের তালিকা থেকে যেগুলো লাগবে সেগুলো বেছে নাও। একটা জিনিস তালিকায় আছে যেটা আসলে সুরক্ষা সামগ্রীই নয়।

পরে নাও ট্যাপ করে পরিয়ে দাও

কোনগুলো ছাড়া কাজ শুরু হয় না

অ্যাপ্রন। এসিড বা ক্ষার ছিটকে পড়লে শরীর আর জামা দুটোই বাঁচায়। ল্যাব থেকে বেরোনোর সময় এটা খুলে রেখে যেতে হয়, কারণ যা ছিটকেছে সেটা এর গায়েই আছে।

৪. দশটা অভ্যাস

নিয়মগুলো লম্বা তালিকা হিসেবে পড়লে মনে থাকে না, কিন্তু এক একটা করে ঠিক-ভুল বিচার করলে থাকে। নিচের দশটা অভ্যাস দুই ঘরে ভাগ করো।

ভাগ করো চিপ, তারপর বাক্স

ঠিক না ভুল

একটা চিপ ধরো, তারপর বাক্সে ছাড়ো।

৫. একই ঘর, দুই রকম

শেষ অভ্যাসটা সবচেয়ে সহজ আর সবচেয়ে কম করা হয়: কাজ শুরুর আগে একবার নিজের বেঞ্চটার দিকে তাকানো। হাতলটা টেনে দেখো। একই ঘর, একই বেঞ্চ, একই মানুষ, শুধু পাঁচটা জিনিস আলাদা।

আগে ও পরে হাতলটা টেনে পাঁচটা পার্থক্য খোঁজো

একই বেঞ্চ, দুই রকম

পাঁচটা পার্থক্য: চশমা কপালে না চোখে, চুল খোলা না বাঁধা, অ্যাপ্রন নেই না আছে, বোতলের ছিপি খোলা না লাগানো, আর বার্নার জ্বলছে না নেভানো। পাঁচটাই তুমি নিজে, কাজ শুরুর আগে, দশ সেকেন্ডে যাচাই করে নিতে পারো।

ছবিটা হাতে আঁকা মডেল, কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারের ছবি নয়।

মিলিয়ে দেখো একটা উত্তর বেছে নাও

তিন পাপড়ির চিহ্ন

তেজস্ক্রিয়তার আন্তর্জাতিক চিহ্নটি কী নামে পরিচিত?

৬. আর যা-ই ঘটুক

এতক্ষণ যা পড়লে তার প্রায় সবটাই দুর্ঘটনা ঠেকানোর কথা। তবু কিছু ঘটে গেলে সবচেয়ে জরুরি কাজটা একটাই, আর সেটা মুখস্থ রাখার মতো ছোট: সাথে সাথে শিক্ষককে জানাও। ছোট বলে চেপে যাওয়া দুর্ঘটনাই বড় হয়। রাসায়নিক ছলকে পড়ুক, কাচ ভাঙুক, গায়ে কিছু লাগুক বা গ্যাসের গন্ধ পাও, প্রথম কাজ জানানো।

আর দ্বিতীয় কাজটা করতে হবে আজই, দুর্ঘটনার আগেই: তোমার নিজের পরীক্ষাগারের নিয়মগুলো শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে নাও। কোথায় কী আছে, কিছু ঘটলে কে কী করবে, আর সবাইকে বেরোতে হলে কোথায় জড়ো হতে হবে। এগুলো স্কুলভেদে আলাদা, আর জানার একমাত্র উপায় জিজ্ঞেস করা।

আগের অংশটা বলেছে কীভাবে একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়। এই অংশটা বলছে সেই খোঁজাটা নিরাপদে করার শর্ত কী। দুটোর একটা ছাড়া অন্যটা কাজে আসে না, আর অধ্যায়টা ঠিক এখানেই শেষ হয়।

মিলিয়ে দেখো একটা উত্তর বেছে নাও

লেবেলহীন বোতল

বেঞ্চের ওপর একটা বোতলে কোনো লেবেল নেই, আর ভেতরে পরিষ্কার একটা তরল। সবচেয়ে সঠিক পদক্ষেপ কোনটি?

এই অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা সহ →

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি (এনসিটিবি), অধ্যায় ১ “রসায়নের ধারণা”, রসায়ন পরীক্ষাগার ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারে সতর্কতা অনুচ্ছেদ।