চিরকুট। English

রসায়ন · নবম-দশম · অধ্যায় ১ · রসায়নের ধারণা

রসায়ন ও অন্যান্য বিজ্ঞান।

বিজ্ঞানের শাখাগুলো আলাদা আলাদা বিষয় নয়। একই প্রকৃতিকে সবাই আলাদা প্রশ্ন করছে, এইটুকুই পার্থক্য। আর রসায়নের প্রশ্নটা, কী দিয়ে তৈরি আর কীভাবে বদলায়, প্রায় প্রতিটা শাখার ভেতরে একবার না একবার এসে পড়ে।

১. প্রতিবেশী নয়, নিচের স্তর

“সম্পর্ক আছে” কথাটা শুনতে ভালো এবং বোঝায় কম। বইয়ের দাবিটা এর চেয়ে শক্ত: রসায়ন অন্য বিজ্ঞানের পাশের ঘর নয়, নিচের তলা। জীববিজ্ঞানের প্রক্রিয়াগুলোই রাসায়নিক বিক্রিয়া। ভূবিজ্ঞানের শিলা ও খনিজই যৌগ। প্রকৌশলের প্রতিটা উপাদান কোনো না কোনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ার ফল।

সবচেয়ে পরিষ্কার উদাহরণটা জীববিজ্ঞান। দুটো বৃত্ত আঁকো, একটা জীববিজ্ঞানের আর একটা রসায়নের, আর দেখো মাঝখানের ঘরটায় কী কী পড়ে। বোতামগুলো চেপে দেখো।

ছেদ বোতাম চাপো

মাঝখানের ঘরটায় কী আছে

মিলিয়ে দেখো একটা উত্তর বেছে নাও

মিলনস্থলের নাম

জীববিজ্ঞান ও রসায়নের মিলনস্থলে গড়ে ওঠা শাখাটির নাম কী?

২. সম্পর্কটা দুমুখো

এখানে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এক দিক শেখে আর অন্য দিকটা বাদ দিয়ে দেয়। রসায়ন পদার্থবিজ্ঞান থেকে যন্ত্র আর তত্ত্ব নেয়, এটা সবাই বলে। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের যন্ত্রগুলো যে উপাদান দিয়ে তৈরি, সিলিকন চিপ, তামার তার, চুম্বকীয় সংকর ধাতু, ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক, সেগুলো রসায়নের দেওয়া। সম্পর্কটা লেনদেনের, একতরফা নয়।

নিচের জালটায় রসায়ন মাঝখানে আর সাতটা শাখা তার চারপাশে। যেকোনো একটায় ট্যাপ করো, আর দুটো বাক্য পাবে: রসায়ন ওটা থেকে কী পায়, আর ওটাকে কী দেয়।

জাল যেকোনো শাখায় ট্যাপ করো

রসায়ন কার সাথে কীভাবে জড়িত

জীববিজ্ঞান। পায়: জীবনের প্রক্রিয়াগুলো, সালোকসংশ্লেষণ থেকে হজম, যেগুলো রাসায়নিক সমীকরণে লেখা যায়। দেয়: সেই প্রক্রিয়ার অণুগুলোর ব্যাখ্যা, প্রোটিন, এনজাইম, DNA। মিলনস্থল প্রাণরসায়ন।

৩. সীমানায় দাঁড়ানো শাখাগুলোর নিজের নাম আছে

দুই শাখার সীমানা যেখানে যথেষ্ট চওড়া, সেখানে একটা আলাদা বিষয় জন্ম নেয় এবং তার নিজের নাম হয়। জীববিজ্ঞান আর রসায়নের সীমানায় প্রাণরসায়ন। পদার্থবিজ্ঞান আর রসায়নের সীমানায় ভৌত রসায়ন। পরিবেশবিজ্ঞান আর রসায়নের সীমানায় পরিবেশ রসায়ন। নামগুলো শুনলেই বোঝা যায় কোন দুই পাশ মিলেছে।

নিচের আটটা বাস্তব কাজ বা ঘটনায় ট্যাপ করে দেখো কোন দুই শাখা সেখানে একসাথে কাজ করছে।

মিলনস্থল ট্যাপ করে দেখো কারা মিলেছে

দুই শাখার মিলনস্থল

জীববিজ্ঞান ও রসায়ন। সূর্যের আলোয় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়। এটা একটা রাসায়নিক বিক্রিয়া, যা ঘটছে একটা জীবন্ত কোষে। মিলনস্থলের নাম প্রাণরসায়ন।
মিলিয়ে দেখো একটা উত্তর বেছে নাও

বাক্যটা কী বোঝাচ্ছে

“রসায়নের যন্ত্রপাতির নীতি পদার্থবিজ্ঞান থেকে আসে, আবার পদার্থবিজ্ঞানের যন্ত্র তৈরির উপাদান রসায়ন থেকে আসে”, এই বাক্যটি কী বোঝায়?

৪. তাই যে বিজ্ঞানই পড়ো

এই অংশটার আসল কাজ কোনো তালিকা মুখস্থ করানো নয়। কাজটা হলো একটা অভ্যাস তৈরি করা: যেকোনো বিষয়ে আটকে গেলে প্রশ্নটাকে রসায়নের দিকে ঘুরিয়ে দেখা। এটা কী দিয়ে তৈরি? আর কীভাবে বদলাচ্ছে? বহু ক্ষেত্রে ওখানেই উত্তরের সুতোটা ধরা পড়ে।

সেতুর ইস্পাতে লবণাক্ত বাতাসে মরিচা না ধরার সমস্যাটা প্রকৌশলীর, কিন্তু উত্তরটা রসায়নের: ক্রোমিয়াম আর নিকেল মিশিয়ে এমন সংকর ধাতু বানানো যাতে মরিচা ধরে না। ভার হিসাব করতে গণিত লাগবে ঠিকই, কিন্তু “মরিচা ধরবে না কেন” প্রশ্নটার মালিক রসায়ন।

মিলিয়ে দেখো একটা উত্তর বেছে নাও

সেতুর ইস্পাত

একজন প্রকৌশলী সেতুর জন্য এমন ইস্পাত চান যাতে লবণাক্ত বাতাসেও মরিচা না ধরে। সমস্যাটা সমাধানে সরাসরি কোন বিজ্ঞানের সাহায্য লাগবে, আর কেন?

এই অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা সহ →

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি (এনসিটিবি), অধ্যায় ১ “রসায়নের ধারণা”, রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার সম্পর্ক অনুচ্ছেদ।