চিরকুট। English

জীববিজ্ঞান · নবম-দশম · অধ্যায় ১ · ১.১

জীববিজ্ঞান কী।

শব্দটা এসেছে গ্রিক থেকে। bios মানে জীবন, logos মানে জ্ঞান। দুটো জুড়ে দিলে যা দাঁড়ায়, তা-ই জীববিজ্ঞান: জীবন সম্পর্কিত জ্ঞান। কিন্তু জীবন জিনিসটা ঠিক কী, আর কোন লক্ষণ দেখে বোঝা যায় কিছু একটা জীবিত? এই নোটে সেটাই, আর সঙ্গে একটা প্রশ্ন যার উত্তর বাংলাদেশে বাস করা যেকোনো মানুষের কাজে লাগে: এই বিজ্ঞান পড়ে কী হয়।

১. সংজ্ঞাটা তিন টুকরোয়

বইয়ের সংজ্ঞাটি এই: বিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের গঠন, জৈবনিক ক্রিয়া এবং জীবনধারণ সম্পর্কে সম্যক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান পাওয়া যায় তাকে জীববিজ্ঞান বলে। বাক্যটা লম্বা, কিন্তু ভেতরে তিনটে আলাদা জিনিস আছে। গঠন, অর্থাৎ জীবটা কী দিয়ে তৈরি ও কেমন করে সাজানো। জৈবনিক ক্রিয়া, অর্থাৎ তার ভেতরে কী কী ঘটে চলেছে। আর জীবনধারণ, অর্থাৎ সে কীভাবে বেঁচে থাকে, খায়, বাড়ে, বংশ রাখে।

এই তিনটে ভাগ মনে রাখলে পরের অনুচ্ছেদের শাখা-তালিকাও সহজ হয়ে যায়: প্রতিটি শাখা আসলে এই তিনটের কোনো একটাকে ধরে বসে আছে।

২. জীব না জড়

একটা পাথর আর একটা পিঁপড়ের মধ্যে পার্থক্য সবাই বোঝে, কিন্তু পার্থক্যটা লিখে বোঝানো কঠিন। বই তাই জীবনের কতগুলো লক্ষণের তালিকা দেয়। মজার ব্যাপার হলো, প্রায় প্রতিটি লক্ষণেরই একটা জড় নকলদার আছে। নিচের চিপগুলোয় ট্যাপ করে দেখো কোন লক্ষণটা কে নকল করতে পারে।

লক্ষণ চিপে ট্যাপ করো

জীবনের লক্ষণ

প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গড়া, আর প্রতিটি কোষে থাকে জীবন্ত প্রোটোপ্লাজম। এটিই একমাত্র লক্ষণ যার কোনো জড় বিকল্প নেই, তাই এটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

৩. পরিধিটা কত বড়

জীববিজ্ঞান মানে গাছ আর পশুপাখি, এই ধারণাটা খুব চেনা এবং খুব ছোট। এক ফোঁটা পুকুরের পানি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে রাখলে যা দেখা যায়, সেটাই পরিধির আসল মাপ।

এক ফোঁটা নম্বরে ট্যাপ করো

এক ফোঁটা পুকুরের পানি

ব্যাকটেরিয়া। ছোট ছোট দণ্ড, খালি চোখে দেখাই যায় না। কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই, অর্থাৎ আদিকোষী। পরে দেখবে, এরা মনেরা রাজ্যের।

নস্টক, স্পাইরোগাইরা ও অ্যামিবা এই অনুচ্ছেদের উদাহরণ নয়; এগুলো সামনের ১.৩ অনুচ্ছেদের রাজ্য-উদাহরণ থেকে ধার করা, পরিধির মাপটা চোখে দেখানোর জন্য।

৪. দুই ভাগ, এক ভিত্তি

জীববিজ্ঞানের দুটি প্রধান ভাগ। উদ্ভিদবিজ্ঞান উদ্ভিদের গঠন, প্রকৃতি, বাসস্থান ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে কাজ করে; এর জনক থিওফ্রাস্টাস। প্রাণিবিজ্ঞান প্রাণীর গঠন, প্রকৃতি, শ্রেণিবিন্যাস ও জীবনচক্র নিয়ে; এর জনক অ্যারিস্টটল, যাঁকে জীববিজ্ঞানেরও জনক বলা হয়। কিন্তু দুটো ভাগ পুরোপুরি আলাদা নয়, আর সেটাই পরের অনুচ্ছেদের ভিত্তি।

ছেদ অংশ বেছে নাও

কোথায় আলাদা, কোথায় এক

৫. পড়ে কী হয়

প্রশ্নটা ন্যায্য, আর উত্তরটা তালিকা দিয়ে দেওয়ার চেয়ে একটা সমস্যা ধরে দেখানো ভালো। ধরা যাক একটা ধানক্ষেতে রোগ লেগেছে। সমাধানের পথটা চারটে ধাপে যায়, আর প্রতিটি ধাপ আলাদা একটা শাখার কাজ।

ধাপে ধাপে পরে বোতাম চাপো

একটা রোগ, চারটি শাখা

মাঠে কী দেখা যাচ্ছে। ধানের পাতায় বাদামি ছোপ, শিষ ভরছে না। প্রথম কাজ চোখে দেখা লক্ষণগুলো নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধ করা: ছোপের আকার, অবস্থান, কত দ্রুত ছড়াচ্ছে। এই কাজটা করে অঙ্গসংস্থানবিদ্যা।

ধানের এই রোগটি বইয়ের কোনো নির্দিষ্ট উদাহরণ নয়; শাখাগুলো কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে তা দেখানোর জন্য সাজানো একটি দৃশ্যকল্প।

খাদ্য, চিকিৎসা ও পরিবেশ, এই তিন জায়গাতেই গল্পটা একই রকম। রোগজীবাণু শনাক্ত না করে টিকা বানানো যায় না; কোন প্রজাতি বিপন্ন তা না জেনে বন রক্ষা করা যায় না। আর এই কাজগুলোর প্রতিটির পেছনে আলাদা আলাদা শাখা আছে। সেই তালিকাটাই পরের অনুচ্ছেদ।

কার্ড কার্ড উল্টাও

শব্দ ও জনক

শব্দbios + logos
মানেগ্রিক bios মানে জীবন, logos মানে জ্ঞান। দুটি মিলে Biology, জীবন সম্পর্কিত জ্ঞান।
প্রশ্নজীববিজ্ঞানের জনক কে?
উত্তরঅ্যারিস্টটল। তিনি প্রাণিবিজ্ঞানেরও জনক।
প্রশ্নউদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক কে?
উত্তরথিওফ্রাস্টাস।
প্রশ্নউদ্ভিদবিজ্ঞান কী পড়ে?
উত্তরউদ্ভিদের গঠন, প্রকৃতি, বাসস্থান, শ্রেণিবিন্যাস ও জীবনচক্র।
প্রশ্নপ্রাণিবিজ্ঞান কী পড়ে?
উত্তরপ্রাণীর গঠন, প্রকৃতি, শ্রেণিবিন্যাস, আচরণ ও জীবনচক্র।
প্রশ্নকোন লক্ষণটি জড় নকল করতে পারে না?
উত্তরপ্রোটোপ্লাজমযুক্ত কোষ দিয়ে গঠিত হওয়া।
মিলিয়ে দেখো

একটা প্রশ্ন

Biology শব্দের logos অংশটির অর্থ কী?

মিলিয়ে দেখো

আরেকটা প্রশ্ন

নিচের কোন লক্ষণটি জড় বস্তুতে কখনোই পাওয়া যায় না?

মিলিয়ে দেখো

শেষ প্রশ্ন

এক ফোঁটা পুকুরের পানিতে ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, স্পাইরোগাইরা ও মশার লার্ভা পাওয়া গেল। এই চারটির মধ্যে কোনটির কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই?

এক নজরে

শব্দ। গ্রিক bios (জীবন) আর logos (জ্ঞান)।

সংজ্ঞা। জীবের গঠন, জৈবনিক ক্রিয়া ও জীবনধারণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান।

লক্ষণ। নয়টি, আর তার মধ্যে কেবল প্রোটোপ্লাজমযুক্ত কোষটিই জড় নকল করতে পারে না।

দুই ভাগ। উদ্ভিদবিজ্ঞান (থিওফ্রাস্টাস) ও প্রাণিবিজ্ঞান (অ্যারিস্টটল), আর মাঝখানে দুইয়েরই সাধারণ শাখাগুলো।

এই অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা সহ →

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (এনসিটিবি), অধ্যায় ১ “জীবন পাঠ”, অনুচ্ছেদ ১.১।