গার্হস্থ্য বিজ্ঞান · নবম-দশম · অধ্যায় ১ · গৃহ ব্যবস্থাপনার ধারণা
ব্যবস্থাপনা কী।
বই শুরু করে একটা ছোট ব্যর্থতা দিয়ে। কয়েকজন বন্ধু একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনারে যাওয়ার কথা ঠিক করেছিল, আর শেষ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি। পরিকল্পনা ছিল, ইচ্ছা ছিল, সময়ও ছিল; ছিল না কেবল সময়টা ধরে রাখার নিয়ম। ব্যবস্থাপনা মানে ইচ্ছার সঙ্গে নিয়মটা জুড়ে দেওয়া।
১. একই দিন, দুইভাবে
শব্দটা ঘরের বাইরেও আছে, ভিতরেও আছে। স্কুল চলে ব্যবস্থাপনায়, দোকান চলে ব্যবস্থাপনায়, একটা পরিবারও। পার্থক্য আকারে, পদ্ধতিতে নয়। আর সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটা হলো, পরিকল্পনা করতে গেলে সময় নষ্ট হয়। নিচের হাতলটা টেনে দেখো: একই পরিবার, একই দিন, একই ছয়টি কাজ, একই লোক।
দুই স্তরহাতলটা ডানে-বাঁয়ে টানো
একই দিন, দুইভাবে
কাজ একই, লোক একই, সম্পদও একই; বদলেছে শুধু ক্রম। ব্যবস্থাপনা নতুন কোনো কাজ যোগ করে না, কাজগুলোকে সাজিয়ে দেয়। আর খেয়াল করো, ভিজিয়ে রাখা চাল আর ভিজিয়ে রাখা কাপড় নিজে নিজেই কাজ করছে; ঠিক সেই সময়টাতেই আরেকটা কাজ এগিয়ে গেছে।
সময়ের অঙ্ক দুটি দৃষ্টান্তমূলক, পাঠ্যবইয়ের নয়। ছয়টি কাজের আলাদা সময়ও ধরে নেওয়া, যাতে যোগ করলে মিলে যায়।
মিলিয়ে দেখো
একটা প্রশ্ন
এক পরিবারে দুই সদস্য একই দিনে একই ছয়টি কাজ করলেন, একজন ২১০ মিনিটে আর অন্যজন ১৫০ মিনিটে, এবং দ্বিতীয়জনের কোনো কাজ বাদ পড়েনি। পার্থক্যটির সবচেয়ে যুক্তিসংগত কারণ কী?
টাকার কথা প্রশ্নে নেই, আর দুজনের সম্পদও এক ধরা হয়েছে। পার্থক্যটা সম্পদে নয়।
ঠিক। কাজের সংখ্যা, লোক ও সম্পদ সবই এক ছিল, তাই পার্থক্যটা সাজানোয়। চাল ভেজানো বা কাপড় ভেজানোর মতো কাজগুলো নিজে নিজেই চলে; সেই অপেক্ষার সময়ে অন্য কাজ এগিয়ে নিলে মোট সময় কমে আর কোনো কাজ বাদ পড়ে না। ব্যবস্থাপনা বাড়তি সম্পদ আনে না, থাকা সম্পদের ক্রম বদলে দেয়।
দুজনেরই একই দিন, অর্থাৎ একই সময়। সময় বেশি ছিল না, সময়ের ব্যবহার আলাদা ছিল।
উল্টো। প্রথমজনের একটি কাজ বাদ পড়েছে, তবু সময় বেশি লেগেছে; সেটাই তো প্রশ্নের মূল কথা।
২. বইয়ের সংজ্ঞা
গৃহ ব্যবস্থাপনা হলো পারিবারিক জীবনযাপনের প্রশাসনিক দিক, যেখানে মানবীয় ও বস্তুগত সম্পদ ব্যবহারে পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন করা হয়। লম্বা বাক্য, কিন্তু ভিতরে মোটে তিনটে জিনিস: লক্ষ্য, সম্পদ আর পদ্ধতি। কী পেতে চাই, কী দিয়ে পাব, আর কীভাবে পাব।
প্রশাসনিক দিক কথাটা ভয় পাওয়ার মতো শোনায়, কিন্তু প্রশাসন মানে হুকুম নয়। প্রশাসন মানে চারটে প্রশ্নের উত্তর আগে থেকে ঠিক করে রাখা: কে কী করবে, কখন করবে, কী দিয়ে করবে, আর ঠিকঠাক হলো কি না কে দেখবে। ঘরেও ঠিক এই চারটে প্রশ্ন।
বই একই কথা আরেকভাবেও বলে: গৃহ ব্যবস্থাপনা একটি ধারাবাহিক গতিশীল প্রক্রিয়া, যা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত হয়। এখানে দুটো শব্দ ওজনদার। ধারাবাহিক, অর্থাৎ থেমে থাকে না। আর গতিশীল, অর্থাৎ পরিস্থিতি বদলালে নিজেও বদলায়।
বইয়ের বিশ্লেষণে ব্যবস্থাপনার তিনটি দিক: কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য স্থির করা, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, আর পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে সম্পদ পরিচালনা। এই তিনটিই পরের তিনটি অনুচ্ছেদের বীজ।
৩. চার পর্যায়, আর চক্রটা বন্ধ
সংজ্ঞার তৃতীয় টুকরাটা চারটে নাম নিয়ে আসে: পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ, মূল্যায়ন। প্রতিটির ভিতরে কী আছে তা এই অনুচ্ছেদের কাজ নয়, সেটা চতুর্থ অনুচ্ছেদে। এখানে শুধু নামগুলো আর একটা কথা: এটা সরলরেখা নয়, চক্র। মূল্যায়নের ফল পরের পরিকল্পনাকে বদলে দেয়, আর এই বন্ধ চক্রটাই ধারাবাহিক গতিশীল প্রক্রিয়া কথাটার ছবি।
ছবিচক্রটা দেখে নাও
চার পর্যায়, বন্ধ চক্র
মূল্যায়ন সর্বশেষ পর্যায়, কিন্তু তির সেখানেই থামে না; ফিরে যায় পরিকল্পনায়। চক্রটা খোলা রাখলে “ধারাবাহিক” কথাটাই মিথ্যা হয়ে যেত।
৪. মানবীয় আর বস্তুগত সম্পদ
সংজ্ঞার দ্বিতীয় টুকরাটা সম্পদ, আর এই অধ্যায়ে সম্পদ আসে একটাই জোড়া হয়ে: মানবীয় ও বস্তুগত। মানবীয় সম্পদ মানুষের ভিতরে থাকে, যেমন সময়, শক্তি, দক্ষতা, জ্ঞান, আগ্রহ ও মনোভাব। বস্তুগত সম্পদ মানুষের বাইরে থাকে আর ছোঁয়া যায়, যেমন টাকা, আসবাব, জমি, ঘরের যন্ত্রপাতি, খাদ্যসামগ্রী। সম্পদের পূর্ণ শ্রেণিবিভাগ এই অধ্যায়ের বিষয় নয়; সেটা তুমি পড়বে তৃতীয় অধ্যায়ে।
ভিতরে না বাইরেযেকোনো চিপে ট্যাপ করো
এই সম্পদটা মানুষের ভিতরে, না বাইরে
মানবীয় সম্পদ। সময় মানুষের বাইরে থাকা কোনো জিনিস নয়, এটি জীবনের অংশ। সবার হাতেই দিনে চব্বিশ ঘণ্টা, তাই পরিবারে পার্থক্য তৈরি হয় সময় কার কত আছে তা দিয়ে নয়, কে কীভাবে খরচ করে তা দিয়ে।
মানবীয় সম্পদ। কাজ করতে গেলে শক্তি খরচ হয়, আর বিশ্রাম, ঘুম ও খাবারে তা ফিরে আসে। তাই ভারী আর হালকা কাজ পাশাপাশি না রেখে সারা দিনে ছড়িয়ে দেওয়াই ব্যবস্থাপনার কাজ।
মানবীয় সম্পদ। রান্নার মাপ ঠিক রাখা, কাপড় ধোয়ার নিয়ম জানা, হিসাব মেলানো, সবই দক্ষতা, আর দক্ষতা তৈরি হয় চর্চায়। এটি এমন সম্পদ যা ব্যবহার করলে কমে না, বাড়ে।
মানবীয় সম্পদ। কোন খাবারে কী পুষ্টি, কোন কাপড় কীভাবে ধুতে হয়, এই জানাটাই সম্পদ। জ্ঞান ভাগ করে দিলেও নিজের কাছে পুরোটাই থেকে যায়; বস্তুগত সম্পদে এটা হয় না।
মানবীয় সম্পদ। কাজটা করতে চাওয়া, আর ঠিকভাবে করতে চাওয়া, এটাও একটা সম্পদ। একই সময় ও একই টাকা নিয়ে দুজন দুরকম ফল পায় মূলত এই জায়গাটাতেই।
বস্তুগত সম্পদ। মানুষের বাইরের জিনিস; হাতবদল হয়, জমানো যায়, খরচ করলে কমে যায়। টাকা দিয়ে অন্য অনেক সম্পদ পাওয়া যায়, কিন্তু সময় বা দক্ষতা পুরোপুরি কেনা যায় না।
বস্তুগত সম্পদ। ছোঁয়া যায়, ব্যবহারে ক্ষয় হয়, যত্নে টেকে। যত্নে রাখা মানেই সম্পদ বাড়ানো, আর সেটাও ব্যবস্থাপনার অংশ।
বস্তুগত সম্পদ। এটি এমন সম্পদ যা একবার হাতছাড়া হলে ফিরে পাওয়া সবচেয়ে কঠিন, তাই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবারে সাধারণত একা নয়, সবাই মিলে নেওয়া হয়।
এটাই কঠিন চিপ। এটি পরিবারের ভিতরের সম্পদ নয়; এটি আসে পরিবারের বাইরে থেকে, সম্পর্কের জোরে। তাই মানবীয় আর বস্তুগত, এই দুই ঘরের কোনোটাতেই এটি পুরোপুরি বসে না। অধ্যায় ১-এ বই সম্পদকে এই দুই ভাগেই দেখায়; সম্পদের পূর্ণ শ্রেণিবিভাগ তুমি পড়বে তৃতীয় অধ্যায়ে।
নয়টিই দেখা হলো। ভাগ করার নিয়মটা সহজ: মানুষের ভিতরে থাকলে মানবীয়, বাইরে থাকলে বস্তুগত। আর শেষেরটা মনে রেখো, কারণ সব জিনিস সবসময় দুই ঘরে ভাগ হয় না।
৫. এক-এক সম্পদের এক-এক স্বভাব
সম্পদ সীমিত, এই কথাটা প্রবন্ধে একটা স্লোগান হয়ে থেকে যায়। কিন্তু সীমাবদ্ধতা সব সম্পদের একরকম নয়। নিচের ছকে চারটে প্রশ্ন: জমানো যায় কি, ভাগ করা যায় কি, অন্য কিছু দিয়ে বদলে চালানো যায় কি, আর ফুরালে ফেরত আসে কি। ঘরের টিক আর ক্রস ভালো-মন্দ নয়, স্বভাব।
ছকযেকোনো ঘরে বা সারির নামে ট্যাপ করো
সম্পদটা কী কী করা যায়
সম্পদ
জমানো
ভাগ করা
বদলে চালানো
ফুরালে ফেরত
সময়
✕
✓
✓
✕
শারীরিক শক্তি
✕
✓
✓
✓
দক্ষতা
✓
✓
✓
✓
জ্ঞান
✓
✓
✕
✓
টাকা
✓
✓
✓
✓
জমি
✓
✓
✕
✕
প্রতিবেশীর সাহায্য
✕
✓
✓
✓
সময় জমানো যায় না; আজকের না-খরচ-করা এক ঘণ্টা কাল পাওয়া যায় না। কিন্তু কাজ ভাগ করে দিলে একজনের সময় বাঁচে, আর টাকা বা যন্ত্র দিয়ে কিছুটা বদলে নেওয়া যায়। এই কারণেই সময় ঘরের সবচেয়ে চাপের সম্পদ।
শক্তি জমানো যায় না, কিন্তু ফুরালে ফিরে আসে, আর সেটাই তাকে সময় থেকে আলাদা করে। তাই কাজের তালিকায় ভারী কাজগুলো একসঙ্গে না রেখে ছড়িয়ে দিলে সারা দিনে বেশি কাজ হয়।
দক্ষতা চারটি ঘরেই টিক: জমে, ভাগ করা যায়, দরকারে অন্য দক্ষ লোক দিয়ে কাজ চালানো যায়, আর চর্চায় ফিরে আসে। ঘরের কাজে দক্ষতাই সবচেয়ে লাভজনক সম্পদ, কারণ এটি ব্যবহারে ক্ষয় হয় না।
জ্ঞান জমে, ভাগ করা যায়, আর ভুলে গেলে আবার শেখা যায়। কিন্তু বদলে চালানো যায় না, আর সেই একটি ক্রসই এই সারির আসল কথা।
টাকার চারটি ঘরেই টিক, আর সেজন্যই টাকাকে সহজ সম্পদ মনে হয়। কিন্তু খেয়াল করো, টাকা দিয়ে সময় কেনা যায় কেবল কিছুটা; সময়ের সারিটা আবার দেখো।
জমি জমানো যায় আর ভাগ করা যায়, কিন্তু বদলে চালানো যায় না আর হাতছাড়া হলে ফেরেও না। দুটো ক্রস পাশাপাশি, আর সেজন্যই জমি নিয়ে সিদ্ধান্ত সবচেয়ে সাবধানে নিতে হয়।
জমানো যায় না, কিন্তু ভাগ করা যায়, দরকারে অন্য উপায়ে কাজ চালানো যায়, আর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখলে বারবার পাওয়া যায়। এই সম্পদের মূল্য টাকায় নয়, সম্পর্কের যত্নে।
সময় জমানোর কোনো উপায় নেই। ব্যবস্থাপনায় সময় নিয়ে একটাই কাজ করা যায়: খরচের ক্রম বদলানো।
কাজ ভাগ করে দিলে একজনের সময় বাঁচে, যদিও মোট সময় কমে না। সংগঠন পর্যায়ের পুরো কাজটাই এই ঘরের উপরে দাঁড়ানো।
টাকা বা যন্ত্র দিয়ে কিছুটা সময় বদলে নেওয়া যায়, কিন্তু পুরোটা নয়; দিনে চব্বিশ ঘণ্টার বেশি হয় না।
নষ্ট হওয়া সময় ফেরত আসে না। এই একটি ঘরের জন্যই দিনের শুরুতে দশ মিনিটের পরিকল্পনা লাভজনক।
আজ কম খেটে কাল দ্বিগুণ শক্তি পাওয়া যায় না। শক্তি জমে না, কিন্তু ফেরে।
ভারী কাজ দুজনে ভাগ করে নিলে দুজনেরই কম খরচ হয়। কর্ম কাঠামো রচনার সময় এটাই দেখা হয়।
যন্ত্র, সহজ কৌশল বা অন্য কারও হাত দিয়ে শক্তির খরচ কমানো যায়।
শক্তি ফুরালে বিশ্রাম, ঘুম আর খাবারে ফিরে আসে। তাই ভারী কাজগুলো একসঙ্গে না রেখে ছড়িয়ে দিলে সারা দিনে বেশি কাজ হয়।
দক্ষতা জমে, আর জমা দক্ষতা পরের বার সময়ও বাঁচায়।
দক্ষতা শিখিয়ে দেওয়া যায়, আর শিখিয়ে দিলে নিজের দক্ষতা কমে না।
এক কাজে দক্ষ কেউ না থাকলে অন্য দক্ষ লোক দিয়ে কাজ চালানো যায়, যদিও ফল হুবহু এক হয় না।
বহুদিন না করলে হাত আড়ষ্ট হয়, কিন্তু চর্চায় ফিরে আসে। হারায় না, ঘুমিয়ে থাকে।
জ্ঞান জমে, আর জমা জ্ঞান পরের সিদ্ধান্তকে সহজ করে দেয়।
এখানেই মজা: জ্ঞান ভাগ করে দিলে তোমার নিজের জ্ঞান এক কণাও কমে না। টাকা বা চাল ভাগ করলে কমে যায়, জ্ঞান কমে না।
না-জানা জিনিস অন্য কিছু দিয়ে বদলে চালানো যায় না। পরামর্শ নেওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু সিদ্ধান্তের দায় তখনো তোমার; তাই জ্ঞানের বিকল্প শুধু শেখা।
ভুলে গেলে আবার শেখা যায়, আর দ্বিতীয়বার শেখা সবসময় দ্রুত হয়।
টাকা জমানো যায়, আর জমানো টাকাই হঠাৎ দরকারের সময় পরিকল্পনাকে নমনীয় রাখে।
ভাগ করা যায়, কিন্তু ভাগ করলে কমে যায়। জ্ঞানের ঘরটার সঙ্গে মিলিয়ে দেখো, তফাতটা এখানেই।
টাকা দিয়ে সময়, শ্রম আর অনেক জিনিস কিছুটা বদলে নেওয়া যায়। সবচেয়ে নমনীয় সম্পদ এটিই।
খরচ হয়ে গেলেও আবার আয় করা যায়। সময়ের ঘরটার সঙ্গে এই ঘরের তফাতটাই সবচেয়ে বড়।
জমি রেখে দেওয়া যায়, আর রেখে দিলে সাধারণত থাকেই। এই ঘরটা জমির শক্তির দিক।
জমি ভাগ করা যায়, কিন্তু ভাগ করলে প্রতিটি অংশ ছোট হয়ে যায়; ভাগের আগে সিদ্ধান্তটা সবাই মিলে নেওয়াই নিয়ম।
জমির বিকল্প জমিই। বস্তুগত সম্পদগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম নমনীয়।
একবার হাতছাড়া হলে সহজে ফেরে না। যে সম্পদের ফেরত ঘরে ক্রস, সেটা নিয়ে তাড়াহুড়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
আজকের সাহায্য জমিয়ে রেখে কাল ব্যবহার করা যায় না; দরকারের সময়েই চাইতে হয়।
এই সাহায্য দুই দিকেই চলে, আর সেটাই একে টিকিয়ে রাখে।
না পেলে নিজে করে বা অন্য উপায়ে কাজ চালানো যায়; এটি কোনো কাজের একমাত্র পথ নয়।
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখলে বারবার পাওয়া যায়, আর সম্পর্কের যত্নটাই এখানে আসল বিনিয়োগ।
প্রথম কলামটা আবার দেখো। সময় একমাত্র সম্পদ যেটা জমানোও যায় না, ফেরতও পাওয়া যায় না; এই একটি কারণেই গোটা অধ্যায়টা সময়ের হিসাব নিয়ে এত কথা বলে।
এই ছকের টিক ও ক্রসের বিন্যাস পাঠ্যবইয়ের ছক নয়; অধ্যায়ের ধারণাগুলো থেকে তৈরি একটি শিক্ষাসহায়ক ছক।
৬. ঘরের কাজ দক্ষ কাজ
একটা কথা এই অনুচ্ছেদেই সরাসরি বলে রাখা ভালো। এক বেলার খাবার তৈরি করতে হিসাব লাগে, মাপ লাগে, ক্রম লাগে, সময় লাগে আর অভিজ্ঞতা লাগে। এটি সাহায্য নয়, এটি কাজ। আর এই কাজ পরিবারের যে কোনো সদস্য করতে পারে ও করে; কে করবে তার উত্তর আসে দক্ষতা, সময় ও অভিজ্ঞতা থেকে, অন্য কিছু থেকে নয়। বইও কাজ বণ্টনের কথা বলতে গিয়ে ঠিক এই তিনটি শব্দই ব্যবহার করেছে।
কার্ডআগে নিজে উত্তর ভাবো, তারপর কার্ড উল্টাও
ব্যবস্থাপনার শব্দগুলো
শব্দপারিবারিক জীবনযাপনের প্রশাসনিক দিক
মানেসংজ্ঞার প্রথম অংশ। প্রশাসনিক মানে হুকুম নয়; কে কী করবে, কখন, কী দিয়ে, আর ঠিক হলো কি না কে দেখবে, এটুকু আগে থেকে ঠিক করে রাখা।
শব্দধারাবাহিক গতিশীল প্রক্রিয়া
মানেব্যবস্থাপনা থামে না, আর পরিস্থিতি বদলালে নিজেও বদলায়। মূল্যায়ন শেষ হলেই পরের পরিকল্পনা শুরু।
শব্দমানবীয় সম্পদ
মানেযা মানুষের ভিতরে থাকে: সময়, শক্তি, দক্ষতা, জ্ঞান, আগ্রহ, মনোভাব।
শব্দবস্তুগত সম্পদ
মানেযা মানুষের বাইরে থাকে ও ছোঁয়া যায়: টাকা, আসবাব, জমি, ঘরের যন্ত্রপাতি, খাদ্যসামগ্রী।
শব্দব্যবস্থাপনার তিনটি দিক
মানেকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য স্থির করা; সম্পদের যথাযথ ব্যবহার; আর পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে সম্পদ পরিচালনা।
শব্দচার পর্যায় ক্রমে
মানেপরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ, মূল্যায়ন, তারপর আবার পরিকল্পনা। সরলরেখা নয়, চক্র।
মিলিয়ে দেখো
আরেকটা প্রশ্ন
গৃহ ব্যবস্থাপনাকে গতিশীল প্রক্রিয়া বলা হয় কেন?
লোকের সংখ্যা দিয়ে গতিশীলতা বোঝায় না। একজনের সংসারও গতিশীল প্রক্রিয়ায় চলে।
ঠিক। গতিশীল মানে নড়াচড়া করে এমন, অর্থাৎ পরিস্থিতি বদলালে ব্যবস্থাপনাও নিজেকে বদলে নেয়। অতিথি এসে পড়লে, কেউ অসুস্থ হলে বা বাজারে কিছু না মিললে আগের পরিকল্পনা অচল হয়ে যায়; তখন নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। সেজন্যই বই একে ধারাবাহিক গতিশীল প্রক্রিয়া বলেছে।
যন্ত্র থাকুক বা না থাকুক, ব্যবস্থাপনা গতিশীলই। কথাটা যন্ত্র নিয়ে নয়, পরিবর্তন নিয়ে।
উল্টো। একবার করলেই চললে সেটা ধারাবাহিকও হতো না, গতিশীলও নয়। মূল্যায়নের পরেই আবার পরিকল্পনা শুরু।
মিলিয়ে দেখো
শেষ প্রশ্ন
নিচের কোনটি মানবীয় সম্পদ?
আসবাব মানুষের বাইরের জিনিস, ছোঁয়া যায়; তাই বস্তুগত সম্পদ।
জমিও বস্তুগত সম্পদ, আর বস্তুগতদের মধ্যে সবচেয়ে কম নমনীয়।
ঠিক। মানবীয় সম্পদ মানুষের ভিতরে থাকে: সময়, শক্তি, দক্ষতা, জ্ঞান, আগ্রহ, মনোভাব। রান্নার দক্ষতা কাউকে দিয়ে দেওয়া যায় না, চর্চা করে অর্জন করতে হয়, আর ব্যবহার করলে কমে না, বাড়ে। বাকি তিনটিই মানুষের বাইরের, ছোঁয়া যায় এমন বস্তুগত সম্পদ।
সঞ্চয় টাকা, আর টাকা বস্তুগত সম্পদ; খরচ করলে কমে যায়।
এক নজরে
সংজ্ঞা। গৃহ ব্যবস্থাপনা হলো পারিবারিক জীবনযাপনের প্রশাসনিক দিক, যেখানে মানবীয় ও বস্তুগত সম্পদ ব্যবহারে পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন করা হয়।
আরেক রূপে। একটি ধারাবাহিক গতিশীল প্রক্রিয়া, যা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত হয়।
তিন দিক। লক্ষ্য স্থির করা, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, আর চার পর্যায়ের মধ্য দিয়ে সম্পদ পরিচালনা।
সম্পদ। মানবীয় সম্পদ মানুষের ভিতরে; বস্তুগত সম্পদ বাইরে। সময় একমাত্র সম্পদ যা জমানোও যায় না, ফেরতও আসে না।
চার পর্যায়। পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ, মূল্যায়ন; আর মূল্যায়নের পরে আবার পরিকল্পনা।
সূত্র: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (এনসিটিবি), অধ্যায় ১ “গৃহ ব্যবস্থাপনা”, “গৃহ ব্যবস্থাপনার ধারণা” অনুচ্ছেদ। অনুচ্ছেদগুলো বইয়ে সংখ্যায় ভাগ করা আছে কি না যাচাই করা যায়নি, তাই শিরোনাম ধরে বলা হয়েছে। সময়ের অঙ্ক দুটি ও সম্পদের ছকটি দৃষ্টান্তমূলক, বইয়ের নয়।