চিরকুট। English

বিজ্ঞান · নবম-দশম · অধ্যায় ১ · ১.৪

খাদ্য সংরক্ষণ।

খাবার নষ্ট হয় কারণ অণুজীব তাতে বংশবৃদ্ধি করে, আর খাবারের নিজের এনজাইমও তাকে ভাঙতে থাকে। অণুজীবের বাড়তে লাগে তিনটি জিনিস: পানি, উপযুক্ত তাপমাত্রা ও খাদ্য। সংরক্ষণের সব পদ্ধতি এই তিনটির কোনো একটিকে কেড়ে নেয়, ব্যস। এটুকু বুঝলে পদ্ধতিগুলো আর মুখস্থ করতে হয় না।

১. নষ্ট হয় কেন

বাতাসে, হাতে, বাসনে, সর্বত্রই ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ইস্টের রেণু আছে। খাবার খোলা পড়ে থাকলে তারা এসে বসে, আর অবস্থা অনুকূল হলে বাড়তে শুরু করে।

ধাপে ধাপে পরে বোতাম চাপো

নষ্ট হয় কেন

অণুজীব সবখানেই আছে। বাতাসে, হাতে, বাসনে, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ইস্টের রেণু সর্বত্র ভাসছে। খাবার খোলা রাখলে এরা এসে বসে। এখানে পর্যন্ত কিছুই নষ্ট হয়নি।

২. পদ্ধতিগুলো

বই পদ্ধতিগুলো এভাবে সাজায়। শুষ্ককরণ: খাদ্য থেকে আর্দ্রতা সরিয়ে দিলে জীবাণু বাড়তে পারে না, এনজাইমও কাজ করতে পারে না; শুঁটকি, শুকনা মরিচ, কিশমিশ, ডাল, শস্যদানা। রেফ্রিজারেশন: শীতল তাপমাত্রায় অণুজীবের বৃদ্ধির গতি কমে যায়, তাই কাঁচা সবজি, ফল ও রান্না করা খাবার স্বল্পমেয়াদে ভালো থাকে। ফ্রিজিং: শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার নিচের তাপমাত্রায় রাখা হয়, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য; পানি বরফ হয়ে গেলে অণুজীব তা কাজে লাগাতে পারে না। রাসায়নিক সংরক্ষক ও চিনি বা লবণের ঘন দ্রবণ, এই দুটির কথা একটু পরে।

ভাগ করো নীতি দেখে ভাগ করো

কোন পদ্ধতি কী কেড়ে নেয়

একটা চিপ ধরো, তারপর বিনে ছাড়ো। নামটা নয়, কাজের নীতিটা দেখো।

অভিস্রবণ কথাটা এক লাইনে: পাতলা দ্রবণ থেকে ঘন দ্রবণের দিকে পানি চলে যাওয়া। অণুজীবের কোষের বাইরে যদি চিনির বা লবণের ঘন দ্রবণ থাকে, তবে কোষের ভেতরের পানি বাইরে বেরিয়ে আসে; একে বলে বহিঃঅভিস্রবণ। কোষটা শুকিয়ে যায়, আর বাঁচতে বা বাড়তে পারে না। জ্যাম, জেলি, মোরব্বা আর লবণে সংরক্ষিত মাছ এভাবেই টেকে।

আগে ও পরে হাতল টানো

শুষ্ককরণ: কী বদলায়

কাঁচা মাছ
শুঁটকি

শুকানোর সময় খাবার থেকে যায় কেবল পানি; আমিষ, খনিজ আর স্নেহ থেকে যায়। তাই একই ওজনের শুঁটকিতে কাঁচা মাছের চেয়ে বেশি আমিষ থাকে, কারণ পানিটুকু বাদ পড়ায় বাকি সব ঘনীভূত হয়ে গেছে। আর অণুজীব? পানি ছাড়া তারা বাড়তে পারে না, তাই খাবার টেকে। একই নীতিতে শুকনা মরিচ, ডাল ও শস্যদানাও মাসের পর মাস ভালো থাকে।

শুকানোর পর আমিষ ঘনীভূত হওয়ার যুক্তিটি সরল হিসাব থেকে আসে, বইয়ের বাক্য নয়।

৩. সংরক্ষক রাসায়নিক, আর ভেজাল

বইয়ের ১.৪.২ অনুচ্ছেদটি দুটো আলাদা জিনিস পাশাপাশি রাখে, আর সেগুলো গুলিয়ে ফেলাই এখানকার সবচেয়ে বড় ভুল। একদিকে সংরক্ষক রাসায়নিক, যেগুলো নির্দিষ্ট খাবারে নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহার করা হয়: ভিনেগার, সোডিয়াম বেনজোয়েট, সোডিয়াম বাইসালফাইট ও পটাশিয়াম মেটা-বাইসালফাইট, আর প্রোপিওনিক ও সরবিক এসিডের লবণ। অন্যদিকে ফরমালিনের মতো পদার্থ, যা বইয়ের ভাষায় খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের জন্য নিষিদ্ধ। রাসায়নিক শুনলেই ক্ষতিকর নয়; ভিনেগার আর লবণও রাসায়নিক।

পদার্থ পদার্থে ট্যাপ করো

কোনটা কী করে

সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। অ্যাসেটিক এসিডের ৫% দ্রবণ। অম্লতা বাড়িয়ে দেয়, ফলে অণুজীব বাঁচতে পারে না। আচার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, আর এই কারণেই আচার অনেকদিন ভালো থাকে।
কার্ড কার্ডে ট্যাপ করো

নাম শুনে ভয় নয়

পদার্থফরমালিন
কী করেখাদ্যে নিষিদ্ধ। খাবার দীর্ঘদিন তাজা দেখাতে ব্যবহার করা হয়। ফল: বদহজম, পেটের পীড়া, হাঁপানি, যকৃৎ ও বৃক্কের ক্ষতি, ক্যান্সারের ঝুঁকি।
পদার্থক্যালসিয়াম কার্বাইড
কী করেনিষিদ্ধ। ফল কৃত্রিমভাবে দ্রুত পাকাতে ব্যবহৃত। ফল দেখতে পাকা, ভেতরে নয়, আর জটিল রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
পদার্থরাইপেন ও ইথিলিন
কী করেফল দ্রুত পাকানোর রাসায়নিক। প্রাকৃতিকভাবে ফল পাকার সময়ও ইথিলিন তৈরি হয়, কিন্তু বাইরে থেকে অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় প্রয়োগ করলে ঝুঁকি তৈরি হয়।
পদার্থসোডিয়াম বেনজোয়েট
কী করেসংরক্ষক, ভেজাল নয়। ছত্রাক ও ইস্ট রোধ করে, ফলের রস সংরক্ষণে নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহৃত হয়।
পদার্থপটাশিয়াম মেটা-বাইসালফাইট
কী করেএটিও সংরক্ষক, ভেজাল নয়। সালফেটের লবণ, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঠেকায়।
পদার্থভিনেগার
কী করেঅ্যাসেটিক এসিডের ৫% দ্রবণ, রান্নাঘরের চেনা সংরক্ষক। অম্লতা বাড়িয়ে অণুজীবকে বাঁচতে দেয় না; আচারে ব্যবহৃত।

ছয়টির মধ্যে তিনটি খাবার টিকিয়ে রাখার স্বীকৃত উপায়, তিনটি নয়। নামের কঠিন শোনাটা কোনো ইঙ্গিত নয়।

মিলিয়ে দেখো

একটা প্রশ্ন

জ্যাম ও জেলিতে ঘন চিনির দ্রবণ ব্যবহার করে খাবার সংরক্ষণ করা হয়। এটি কীভাবে কাজ করে?

মিলিয়ে দেখো

আরেকটা প্রশ্ন

নিচের কোনটি খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ব্যবহারের জন্য নিষিদ্ধ?

মিলিয়ে দেখো

শেষ প্রশ্ন

রেফ্রিজারেটরে রাখা খাবারও কিছুদিন পর নষ্ট হয়ে যায় কেন?

এক নজরে

সূত্র। অণুজীবের দরকার পানি, উপযুক্ত তাপমাত্রা ও খাদ্য; প্রতিটি পদ্ধতি এর একটা কেড়ে নেয়।

পদ্ধতি। শুষ্ককরণ, রেফ্রিজারেশন, ফ্রিজিং (০ °F বা নিচে), রাসায়নিক সংরক্ষক, আর চিনি বা লবণের ঘন দ্রবণ।

ঘন দ্রবণ। বহিঃঅভিস্রবণে অণুজীবের কোষ থেকে পানি বেরিয়ে যায়, তাই সে শুকিয়ে যায়।

ভেজাল। ফরমালিন খাদ্যে নিষিদ্ধ; ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে ফল পাকানোও নয়। কিন্তু রাসায়নিক মাত্রেই ক্ষতিকর নয়।

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (এনসিটিবি), অধ্যায় ১ “উন্নততর জীবনধারা”, অনুচ্ছেদ ১.৪.১ ও ১.৪.২।