বিজ্ঞান · নবম-দশম · অধ্যায় ১ · ১.১.৫ ও ১.১.৬
খনিজ, পানি ও আঁশ।
খাদ্যের শেষ দুই পরিপোষক খনিজ লবণ আর পানি; আর তার সঙ্গে সেই জিনিসটা যা পরিপোষক নয় অথচ খাদ্যতালিকায় থাকতেই হয়, রাফেজ বা আঁশ। তিনটিরই একটা মিল আছে: এক কণাও শক্তি দেয় না।
১. খনিজ লবণ
খনিজ লবণ খাদ্যের অজৈব উপাদান। শক্তি দেয় না, কিন্তু দেহ গঠনে ও দেহের কাজ পরিচালনায় অপরিহার্য। বই মূলত তিনটি নিয়ে কথা বলে, লৌহ, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস, আর সঙ্গে পটাসিয়ামের উল্লেখ রাখে।
খনিজের খোঁজ
২. পানি
বইয়ের কথায়, দেহের ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশই পানি। আর পানির কাজ পাঁচটি। কোষ গঠন ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। দ্রাবক হিসেবে কাজ করা ও উপাদান পরিবহন করা। খাদ্য পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করা। ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়ার মতো বিষাক্ত পদার্থ নির্গমনে সহায়তা করা। আর ঘাম ও বাষ্পীভবনের মাধ্যমে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা উচিত।
দেহে পানি কমতে থাকলে
লক্ষণগুলোর ক্রম বইয়ের, কিন্তু মাঝের শতাংশগুলো আনুমানিক; বইয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা আছে কেবল ১০%-এর।
৩. রাফেজ বা আঁশ
রাফেজ হলো খাবারগুলোর দীর্ঘ তন্তুময় অংশ, মূলত উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের সেলুলোজ। মানুষের পরিপাকতন্ত্র সেলুলোজ ভাঙতে পারে না, তাই বইয়ের ভাষায় রাফেজ আমাদের দেহে কোনো পুষ্টি যোগায় না। তবু প্রতিদিন কুড়ি থেকে ত্রিশ গ্রাম আঁশযুক্ত খাদ্য দরকার।
কেন, সেটা এক টুকরো শাকের যাত্রা ক্রমে সাজালেই বোঝা যায়।
আঁশের পাঁচ ধাপ
আঁশের কাজগুলো বই ধরে ধরে বলে: পরিপাকে সাহায্য করা ও মলের পরিমাণ বাড়ানো, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা, আর হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করা। আঁশ পেট ভরা ভাব ধরে রাখে, তাই হজম ধীরে ও সমান গতিতে হয়।
আঁশ কোথায়
লাল আটার রুটি বইয়ের উৎস-তালিকায় নেই; এখানে চেনা উদাহরণ হিসেবে রাখা হয়েছে।
সাতটি সংখ্যা
একটা প্রশ্ন
রক্তে হিমোগ্লোবিন গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে কোন খনিজ পদার্থটি?
আরেকটা প্রশ্ন
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওজন ৬০ কেজি। তার দেহে ক্যালসিয়ামের আনুমানিক পরিমাণ কত, আর তার কতটা অস্থিতে জমা থাকে?
শেষ প্রশ্ন
রাফেজ বা আঁশ সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?
এক নজরে
লৌহ। হিমোগ্লোবিন গঠনে; প্রতি ১০০ mL রক্তে প্রায় ৫০ mg; অভাবে রক্তশূন্যতা।
ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। হাড় ও দাঁত। ক্যালসিয়াম শরীরের ওজনের প্রায় ২%, তার ৯০% অস্থিতে। অভাবে রিকেটস ও অস্টিওম্যালেসিয়া।
পানি। দেহের ৬০ থেকে ৭৫%; পাঁচটি কাজ; দৈনিক ২ থেকে ৩ লিটার; ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ ও মৃত্যুর ঝুঁকি।
রাফেজ। উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের সেলুলোজ; পুষ্টি দেয় না; দৈনিক ২০ থেকে ৩০ গ্রাম।
শরীর বা খাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে পরিবারের বড় কারও সঙ্গে বা স্কুলের শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলো; প্রয়োজন হলে তাঁরা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন।
সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (এনসিটিবি), অধ্যায় ১ “উন্নততর জীবনধারা”, অনুচ্ছেদ ১.১.৫ ও ১.১.৬। ক্যালসিয়ামের দৈনিক চাহিদার সংখ্যাটি এখানে দেওয়া হয়নি, কারণ উৎসভেদে তা আলাদা পাওয়া গেছে।