চিরকুট। English

কৃষিশিক্ষা · নবম-দশম · অধ্যায় ১ · পঞ্চম পরিচ্ছেদ

খাদ্য সংরক্ষণ।

ফসল ফলানো যত বড় কাজ, ফলানো জিনিস নষ্ট না হতে দেওয়াও তত বড়। আগের পরিচ্ছেদে দেখেছ, সংরক্ষণের সময় প্রায় ১০ ভাগ ফসল নষ্ট হয়। খাদ্য সংরক্ষণ সেই ক্ষতিটা ঠেকানোরই প্রযুক্তি, আর এই পরিচ্ছেদ মূলত খামারের খাদ্য নিয়ে: মাছের খাদ্য আর পশুপাখির খাদ্য।

১. সংরক্ষণ মানে গুণাগুণ ঠিক রাখা

কোনো খাদ্যের গুণাগুণ ও পুষ্টিমান ঠিক রেখে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য খাদ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে রেখে দেওয়াকেই বলে খাদ্য সংরক্ষণ। সংজ্ঞার ভিতরে “গুণাগুণ ও পুষ্টিমান ঠিক রেখে” অংশটাই সংরক্ষণকে শুধু জমিয়ে রাখা থেকে আলাদা করে। পচেনি মানেই ভালো আছে, ব্যাপারটা তা নয়।

খাদ্য নষ্ট হওয়ার পিছনে চারটে জিনিস, আর প্রত্যেকটার নিজের সীমা আছে। আর্দ্রতা ১০ শতাংশের বেশি হলে ছত্রাক ও পোকা জন্মায়। আপেক্ষিক আর্দ্রতা, অর্থাৎ বাতাসের আর্দ্রতা, ৬৫ শতাংশের বেশি হলে ছত্রাক ও পোকা বংশবৃদ্ধি করে। তাপমাত্রা ২৬ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পোকার বংশবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে অনুকূল, আর এই তাপে পুষ্টিও নষ্ট হয়। আর সূর্যালোক কয়েক মিনিটেই ভিটামিন নষ্ট করে, অক্সিজেন চর্বিকে জারিত করে বাসি গন্ধ ধরায় ও পোকার বৃদ্ধি ঘটায়।

একটা সতর্কতা এখানেই দিয়ে রাখা ভালো। আগের পরিচ্ছেদে বীজের নিরাপদ আর্দ্রতা ছিল ১২ শতাংশ, আর এখানে খাদ্যের সীমা ১০ শতাংশ। দুটো আলাদা সংখ্যা, আর পরীক্ষায় এরাই সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে যায়।

তিনটি কাঁটা তিনটি স্লাইডার টেনে দেখো

কখন নষ্ট হবে

চার শত্রু শত্রুর নামে ট্যাপ করো

চারটি শত্রু

সীমা ১০%। এর বেশি হলে ছত্রাক ও পোকা জন্মায়। উপায়: ভালো করে শুকানো, বায়ুরোধী পাত্র, আর মেঝে থেকে ১২ থেকে ১৫ সেমি উঁচু কাঠের মাচা।
মিলিয়ে দেখো

একটা প্রশ্ন

একটি গুদামে খাদ্যের আর্দ্রতা ৮%, আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৭৫%, তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খাদ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি আছে কি?

২. শুকনা না ভেজা

মাছের খাদ্যের জন্য বই দুটো আলাদা নিয়ম দেয়, আর নিয়ম দুটো একেবারে উল্টো। শুকনা খাদ্য ও উপাদান রাখতে হবে বায়ুরোধী পাত্র বা বস্তায়, ঠাণ্ডা ও শুকনা জায়গায়, আর মাছের শুকনা খাদ্যের ক্ষেত্রে সংরক্ষণকাল ৩ মাসের বেশি নয়। বস্তা রাখতে হবে মেঝে থেকে ১২ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার উঁচু কাঠের মাচায়, বস্তার চারপাশে ছাই ছিটিয়ে পোকা ঠেকাতে হবে, আর ইঁদুর থেকে বাঁচাতে হবে।

ভেজা ও সংবেদনশীল উপাদানের নিয়ম আলাদা। টাটকা ছোট মাছ সঙ্গে সঙ্গে খাওয়াতে হবে, নয়তো হিমায়িত রাখতে হবে। তেলসমৃদ্ধ খাদ্য রাখতে হবে অস্বচ্ছ বা অন্ধকার পাত্রে, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায়, কারণ আলো ও অক্সিজেনে চর্বি নষ্ট হয়। আর ভিটামিন ও খনিজ রাখতে হবে বায়ুরোধী, আলোরোধী পাত্রে, হিমায়িত অবস্থায়।

ভাগ করো চিপে ট্যাপ করে বিন বেছে নাও

কোনটা কোথায় রাখবে

একটা চিপ ধরো, তারপর বিনে ছাড়ো। প্রশ্নটা হলো, এটা কি শুকিয়ে রাখার জিনিস, না ঠাণ্ডা ও অন্ধকারে রাখার?

৩. পশুপাখির খাদ্য: পাঁচ পথ

পশুপাখির খাদ্য সংরক্ষণের পাঁচটি পদ্ধতির কথা বই বলে, আর প্রথম দুটো পরস্পরের উল্টো পথে একই কাজ করে। শাখাগুলো খুলে দেখো।

শাখা শাখায় ট্যাপ করে খোলো

পশুপাখির খাদ্য সংরক্ষণের পাঁচ পথ

  • পশুপাখির খাদ্য সংরক্ষণ
    • হে শুকিয়ে বাঁচানো
      • শিম-গোত্রীয় ঘাস ভালো
      • ফুল আসার সময় কাটতে হয়
      • শুকিয়ে আর্দ্রতা ১৫ থেকে ২০%
      • মাচা বা ছাউনির নিচে গাদা করে রাখা
    • সাইলেজ বাতাস বন্ধ করে বাঁচানো
      • ভুট্টা, নেপিয়ার ও গিনি ঘাস উপযুক্ত
      • রসালো অবস্থায়, ফুল আসার সময় কাটা
      • বায়ুশূন্য গর্তে চাপ দিয়ে ভরা
      • গুড়ের দ্রবণ মেশানো
      • বাতাস ঢুকতে না দিয়ে সিল করা
    • খড় মাড়াইয়ের পর যা থাকে
      • ধান, ভুট্টা ও ডাল মাড়াই করে দানা আলাদা করার পর
      • শুকিয়ে আর্দ্রতা ১৫ থেকে ২০%
      • গাদা করে রাখা
    • শস্য ও তেলবীজের উপজাত মিলের পর যা থাকে
      • চালের কুঁড়া
      • গমের ভুসি
      • ডালের খোসা
      • খৈল
    • কারখানায় প্রস্তুত খাদ্য তিন আকারে
      • পিলেট
      • মেশ
      • ক্রাম্বল

হে আর সাইলেজ, দুটোই ঘাস সংরক্ষণ, আর সেজন্যই এরা সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে যায়। পচনের জন্য দরকার পানি আর বাতাস, দুটোই; একটা কেড়ে নিলেই পচন থামে। হে পানি কাড়ে, আর সাইলেজ বাতাস কাড়ে। হাতল টেনে দুটো পাশাপাশি দেখো।

দুই পথ হাতল টেনে দেখো

হে না সাইলেজ

মিলিয়ে দেখো

আরেকটা প্রশ্ন

হে ও সাইলেজ, দুটোই ঘাস সংরক্ষণের পদ্ধতি। মূল পার্থক্যটা কী?

মিলিয়ে দেখো

শেষ প্রশ্ন

খাদ্যদ্রব্যে আর্দ্রতা কত শতাংশের বেশি হলে ছত্রাক ও পোকা জন্মায়?

এক নজরে

সংজ্ঞা। গুণাগুণ ও পুষ্টিমান ঠিক রেখে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য খাদ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে রেখে দেওয়া।

চার শত্রু ও তাদের সীমা। আর্দ্রতা ১০%, আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৫%, তাপমাত্রা ২৬ থেকে ৩০ ডিগ্রি, আর আলো ও অক্সিজেন।

মাছের খাদ্য। শুকনা: বায়ুরোধী পাত্রে, ঠাণ্ডা-শুকনা জায়গায়, ৩ মাসের বেশি নয়, মাচা মেঝে থেকে ১২ থেকে ১৫ সেমি উঁচু, চারপাশে ছাই। ভেজা: টাটকা মাছ সঙ্গে সঙ্গে বা হিমায়িত, তেলসমৃদ্ধ অন্ধকার পাত্রে, ভিটামিন-খনিজ বায়ুরোধী ও আলোরোধী পাত্রে হিমায়িত।

পাঁচ পদ্ধতি। হে (আর্দ্রতা ১৫ থেকে ২০%), সাইলেজ (বায়ুশূন্য গর্ত, গুড়ের দ্রবণ), খড় (আর্দ্রতা ১৫ থেকে ২০%), শস্য ও তেলবীজের উপজাত, আর কারখানার পিলেট, মেশ ও ক্রাম্বল।

নিরাপত্তা। খাদ্য গুদামে বিষাক্ত দ্রব্য রাখা যাবে না। পোকা ঠেকাতে বইয়ের ব্যবস্থাগুলো অরাসায়নিক: ছাই, মাচা, বায়ুরোধী পাত্র, শুকানো ও হিমায়ন।

সূত্র: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি (এনসিটিবি), অধ্যায় ১ “কৃষি প্রযুক্তি”, পঞ্চম পরিচ্ছেদ “খাদ্য সংরক্ষণ”।